ফরিদপুর: ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে লালন মোল্লা (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে বোয়ালমারী উপজেলার ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমের (৪০) সঙ্গে মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের লালন মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ফরিদপুর শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
মামলায় বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই লালন মোল্লা স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় তিনি সাজেদা বেগমের ওপর নির্যাতন চালাতেন। ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে টাকা আনা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে লোহার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে স্ত্রীকে হত্যা করে তিনি পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন নিহতের বোন মাজেদা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ লালন মোল্লাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। তার আশা, এ রায়ের মাধ্যমে যৌতুকের দাবিতে নারী হত্যার মতো অপরাধ কমাতে ইতিবাচক বার্তা যাবে।