টাঙ্গাইল: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, শুধু দেশের শিক্ষার মান নয়, অর্থনীতিও আজ তলানিতে। হাসিনার ফ্যাসিবাদী রেজিম এগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিদ্যুতের নামে লুটপাট করেছে, গ্যাস উত্তোলন না করে শুধু ইনপুট আমদানি করেছে। বেপজা-কে ধ্বংস করে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলের বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আহমেদ আযম খান বলেন, ‘এই নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় এসে গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা করেছে। আমরা ইলেকট্রিসিটি উৎপাদনের ব্যবস্থা দ্রুত করছি। আমাদের যে সংকট এখন চলছে, এটা আমাদের সংকট নয়; ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদ এই সংকট তৈরি করে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সংকট উত্তরণের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন এবং ইনশাআল্লাহ অতি দ্রুত এই সংকট আমরা উত্তরণ করব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আজকের শিক্ষার সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে কোনো আপস হবে না। প্রতিটি প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, ইন্টারমিডিয়েট কলেজ এবং ডিগ্রি কলেজে আগে লেখাপড়া হবে, তারপরে খেলাধুলা হবে, নাটক-থিয়েটার হবে। সবই আমাদের বাংলাদেশের সংস্কৃতি।’
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘গত ১৮ বছরে বাংলাদেশের শিক্ষার মান তলানিতে চলে গেছে। জিপিএ এবং জিপিএ-৫ (গোল্ডেন জিপিএ-৫) কেন এত কমে গেছে? এর কারণ হলো- এই ১৮ বছরে প্রত্যেকটি স্কুলে এমন বার্তা বা নির্দেশনা পাঠানো হতো যে, ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষায় যা-ই লিখুক না কেন, ৯৯% পাশ দেখাতে হবে। এই যে একটি অসুস্থ বার্তা— যেখানে ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করে নিজেদের মেধা অনুযায়ী যতটুকু লিখতে পারবে সে অনুযায়ী রেজাল্ট হওয়ার কথা, তা না করে জোর করে ৯৯% পাশ এবং নির্দিষ্ট একটি বড় শতাংশ জিপিএ ও গোল্ডেন জিপিএ দেখাতে বাধ্য করা হতো। ফরমায়েশি এই রেজাল্ট স্কুল, কলেজ এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষার মানকে একপ্রকার ধ্বংস করে দিয়েছে।‘
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সবার আগে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়। হাসিনা রেজিম ঠিক সেই কাজটিই করেছে। এই কাজটি তারা এ কারণে করেছে যে, দেশটা যখনই মেধার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, তখনই তরুণরা গণতন্ত্রের কথা বলবে, অর্থনীতির কথা বলবে এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধির কথা বলবে। কিন্তু যখন দেশ মেধার ভিত্তিতে না চলে শিক্ষার মান নিচে নেমে যায়, তখন দেশ নেশায় ভরে যায় এবং দুর্নীতিতে আকণ্ঠ ডুবে যায়। আর ঠিক তখনই এই দেশটাকে শোষণ করা ও লুটপাট করা অনেক বেশি সহজ হয়ে পড়ে। হাসিনা রেজিম বিগত ১৮ বছর ধরে ঠিক সেই কাজটিই করেছে।’
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সহধর্মিণী বেগম নার্গিস সিদ্দিকা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান মুনসীফ, বাসাইল ও সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম মামুনুর রশীদ, বাসাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু প্রমুখ।