Tuesday 25 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে ৪ খুন: সিসি ক্যামেরা রয়েছে সন্দেহে বিদ্যুতের লাইন কাটেন সিদ্ধার্থ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৫ আগস্ট ২০২৬ ২১:৫৩

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ

রংপুর: নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। বাসায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে সন্দেহে বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছিলেন সিদ্ধার্থ।

এছাড়া ময়নাতদন্তে নিহতদের মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ার পেছনে এসিড বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক চিকিৎসক। এছাড়া ধর্ষণের কোনো প্রাথমিক আলামতও পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্ত যা বলছে

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, ‘এটা পচে যাওয়ার কারণে এরকম দেখা যাচ্ছে। কোনো এসিড বা অন্য কিছু ব্যবহার করা হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, নিহতদের সবার মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চারজনের কারও শরীরে চোয়াল ভাঙা বা চোখ বের হয়ে আসার মতো কোনো আলামত মেলেনি।

সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে

পুলিশের বর্ণনার সঙ্গে কিছু বিষয় এখনও মেলেনি। উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন— খোলা ছাদে ইয়াবা সেবন সম্ভব কিনা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু জাফর বলেন, ‘ইয়াবা সাধারণত বদ্ধ জায়গায় খাওয়া হয়। তবে ব্যতিক্রমও থাকতে পারে।’

ঘটনার পর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল— যা খুনিদেরই কাজ বলে দাবি করছে পুলিশ। সিআইডির এসপি সুমিত চৌধুরী জানান, আসামিরা বলেছে, অন্ধকার করার জন্য তারা বাড়ির মিটারের সংযোগ কেটে দিয়েছে। বাসায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে সন্দেহে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেন সিদ্ধার্থ।

আরও কেউ জড়িত? ডিএনএ পরীক্ষায় মিলবে উত্তর

সিআইডি ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, সিগারেটের টুকরো, ফয়েলসহ বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া দুই আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।

সুমিত চৌধুরী বলেন, ‘আমি তদন্ত কর্মকর্তাকে চারটি নির্দেশনা দিয়েছি— মৃত্যুর সময়, মৃত্যুর কারণ, ধর্ষণের ঘটনা ছিল কিনা এবং কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা। ফরেনসিক রিপোর্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে আরও কেউ জড়িত ছিল কিনা।’

তদন্ত ডিবিতে

ইতোমধ্যে মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যা ঘটেছিল

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে আগামী (২৩) ও ছেলে প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর