Tuesday 25 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মেকানিক তৈরিতে পুলিশের মাস্টারপ্ল্যান, বছরে বাঁচবে কয়েক কোটি টাকা

মেহেদী হাসান স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৫ আগস্ট ২০২৬ ২২:২২

ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুল (টিডিএস)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: বাংলাদেশ পুলিশের বিশাল বহরে যুক্ত থাকা হাজার হাজার যানবাহন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবছর খরচ হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। আর এই কাজগুলো উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে করে থাকে স্থানীয় ঠিকাদাররা। এবার তাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এই খাতে শতভাগ স্বাবলম্বী হতে যুগান্তকারী এক ‘মাস্টারপ্ল্যান’ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। নিজস্ব মেকানিক তৈরির মাধ্যমে সরকারি তহবিলের বিশাল অংকের খরচ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত ‘ভেহিকেল মেকানিক ট্রেনিং’ কোর্স।

ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুল (টিডিএস)-এর নিয়ন্ত্রণে জামালপুরের ৪০ একর জমিতে তৈরি সুবিশাল কেন্দ্রে আগামী মাস থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে এই মেকানিক কোর্স। ‘টিডিএস’ বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। যেখানে ট্রাফিক পুলিশ সদ্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে তারা সারাদেশে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করতে পারে। টিডিএস এর ট্রাফিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষ করে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি টিডিএস-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম সারাবাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ পুলিশের এই নতুন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা বলেছেন। সেই সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: বাংলাদেশে ট্রাফিক প্রশিক্ষণের শুরুটা কীভাবে হলো?

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুল (টিডিএস) স্থানটি পূর্বে ছিল মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন। মিল ব্যারাক বলতে আসলে ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল সুগারকেন মিল। পরবর্তীতে ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের পর ব্রিটিশদের একটা কোম্পানি ব্যাটালিয়ন ছিল এই মিলে। কালক্রমে তা আমাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর পর এটিকে ট্রাফিক ট্রেনিং সেন্টারে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয় ১৯৬৫ সালে। তখন এটিকে বলা হতো ট্রাফিক ট্রেনিং সেন্টার। পাকিস্তান আমলে এই দেশে ট্রাফিক ট্রেনিং সেন্টার বলতে এটিই একমাত্র ট্রেনিং সেন্টার ছিল (ট্রাফিক ট্রেনিং সেন্টার)। তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপির উদ্যোগে জামালপুরে নতুন স্থান পরিদর্শনের পর ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ঢাকায় প্রধান কার্যালয় রেখে গঠিত হয় ‘ট্রাফিক ড্রাইভিং স্কুল’ (টিডিএস) এবং জামালপুরে ‘মোটর ড্রাইভিং স্কুল’ (এমডিএস)। টিডিএস থেকেই জামালপুরের এমডিএস পরিচালিত হয়।

সারাবাংলা: প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কী ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে?

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আমি যখন এখানে যোগদান করি, তখন মূলত একটি মাত্র কোর্স পরিচালিত হতো। ট্রাফিক সার্জেন্টদের পদোন্নতিমূলক, যা ম্যান্ডেটরি কোর্স নামে ‘ট্রাফিক সার্জেন্ট নবায়ন কোর্স’। এই কোর্স না করলে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে না ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পদে। এ ছাড়া সবচেয়ে পুরোনো (১৯৬৫ সাল থেকে চলে আসা) ‘ভেহিকেল ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্স’ ছিল। এটা মিক্সড কোর্স, এখানে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক সার্জেন্ট, ট্রাফিক সাব-ইন্সপেক্টর, এটিএসআই- এসব মিলেই কোর্সটা করানো হতো। আর এখন ৩৬৬তম কোর্স চলছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন ও নতুন উদ্যোগ নিই।

পরবর্তীতে দেখা গেল যে, আরও দু’টি কোর্স করানো যেতে পারে। এটি ছিল আগে, কিন্তু করানো হতো না। হয়তোবা দক্ষ প্রশিক্ষক ও বাজেটের অভাবে এড়িয়ে যাওয়া হতো। আমি যখন এখানে আসি তখন এই ট্রাফিক ট্রেনিং সেন্টারকে অনেকে ভাবতো যে ডাম্পিং পোস্ট। এটা সত্যি কথা। আমি এসে দেখলাম যে, আসলেই এই মনোভাব অনেকে পোষণ করে অনেকেই বলত যে, ‘এই, তোমার পোস্টিং কোথায়?’ যখন আমি পরিচিয় দিতাম টিডিএস, তখন চিনতো না। বলতো ‘এটা আবার কোথায়?’ ডিটিএস চিনতো। একটা আছে আমাদের ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুল। ওটার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতো। সত্যি কথা, এখানে পোস্টিং হওয়ার আগে আমিও জানতাম না টিডিএস নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে!

১৯৬৫ সালের পর অনেক বার কারিকুলাম পরিবর্তন হয়। কয়েকবছর আগের কারিকুলাম বর্তমান সময়ের উপযোগী ছিল না। আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতি মাসে এটি রিভিউ ও আপডেট করা শুরু করি। গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসি এবং এটা খুব ফ্রুটফুল হয়। পুরাতন দুইটা ট্রেনিংকেও সুন্দরভাবে সচল করলাম। ট্রাফিক কনস্টেবলদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্থগিত কোর্সটি পুনরায় চালু করা হয়। ট্রাফিক কনস্টেবলদের বেসিক ট্রাফিক সার্টিফিকেট কোর্স এবং ভেহিকেল ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্স।

এর পর আমি দেখলাম যে, আমাদের আরও কিছু কোর্স করা যায় কিনা। ২০২৩ -এর দিকে আমাদের নতুন কমান্ড্যান্ট আসলেন। তাকে বললাম ‘স্যার, আমরা ট্রাফিক কাজ করি, কিন্তু ইনভেস্টিগেশন আমাদের তো পাওয়ার নাই, বিশেষ করে ট্রাফিক সার্জেন্টদের। তাদের ট্রাফিক ইনভেস্টিগেশনের ওপর কোনো কোর্স করানো যায় কি না?’ আমাদের মূলত মাথায় ছিল যে, ইনভেস্টিগেশনের ওপরে তাদের ধারণা দেওয়া। কিন্তু এটা যে কোর্স হিসেবে করাব—এমন ধারণাও আমাদের মাথায় ছিল না। স্যার রাজি হলেন। তখন আমরা একটা গবেষণাপত্রের কাজ করি। আমি এটা ফিনিশিং টাচ দিই। ওই কাজ করার সময় বুয়েটের এআরআই (এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট) এর ড. সামসুল স্যার ও ড. হাদী ভাই অনেক সহায়তা করেন।

জাতিসংঘ মিশনে দুই বছর কমান্ডার হিসেবে দারফুরে কাজ করেছি। ওখানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNDSS) খুব শক্তিশালী একটা সংস্থা, তাদের সঙ্গে আমার আগে কাজ করার সুবাদে দু’য়েকজন বাংলাদেশি UNDSS-এ ছিলেন, তাদের কাছ থেকে আমি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে (রাশিয়ায় থাকে একজন, ইংল্যান্ডে একজন) বিভিন্ন মডিউল নিলাম। নিয়ে দেখলাম বাংলাদেশের সঙ্গে মিলে না। বাংলাদেশের আমাদের এক্সিডেন্ট কালচার এবং এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মিলে না, কিন্তু কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। এর থেকে আমাকে এআরআই ভালো সহায়তা করছে। সবকিছুর সহায়তা নিয়ে আমি প্রায় ছয় মাসের একটা ক্রাশ প্রোগ্রাম নিলাম।

এর পর আমি মডিউলের খসড়া বানিয়ে এআরআই-এ, সিআইডির ফরেনসিক ও বিআরটিএ-তে পাঠালাম। হেডকোয়ার্টার জাস্টিফাই করল। এভাবে করতে করতে আমরা ছয় মাস পর একটা পূর্ণাঙ্গ মডিউল বানালাম। তখন হেডকোয়ার্টার থেকে একটা মানসিকভাবে অনুমতি পেলাম যে, শুরু করো। আমরা ২০২৩ সাল থেকে ‘Scientific Investigation for Road Traffic Accidents’ নামে তিন সপ্তাহের একটি নতুন কোর্স চালু করি, যা ২০২৪ সালের শেষের দিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। কোর্সটিতে ভালো সাড়া পাই। প্রথম দিকে ছিল ৪০ জন। এর মধ্যে ২০ জন ট্রাফিক সার্জেন্ট, ২০ জন সাব-ইন্সপেক্টর। বর্তমানে এটা ১০ জন বাড়ানো হয়েছে ক্যাপাসিটি অনুযায়ী। এতে দুর্ঘটনাস্থলের টায়ারের দাগ, রাস্তার অনুপাত এবং বীজগণিতীয় গণনার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় শেখানো হয়। ট্রাফিক বিভাগ মূলত একটি নন-অপারেশনাল ইউনিট হলেও, সার্বিক আইনশৃঙ্খলায় নিজেদের ক্ষমতার সীমা এবং সঠিক প্রয়োগ জানতে ‘ইউজ অব ফোর্স’ বিষয়ক সেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সারাবাংলা: টিডিএস-এর নতুন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ বিষয়ে যদি বলতেন।

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: শিগগিরই আমরা ভেহিকেল মেকানিক ট্রেনিং দাঁড় করাচ্ছি। উদ্দেশ্য, সরকারি টাকার সাশ্রয় করা। বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুবৃহৎ বাহিনী হওয়ায় প্রতিদিন এর হাজার হাজার যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। বর্তমানে এই মেরামত কাজের বড় অংশই সম্পন্ন হয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে স্থানীয় বেসরকারি ঠিকাদারদের দিয়ে। ফলে সরকার ও পুলিশ বাহিনীর বিপুল পরিমাণ বাজেট এই খাতেই চলে যায়। অন্যান্য বাহিনীর মতো আমরা নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য আমাদের ভেহিকেল মেকানিক তৈরি হয় তাহলে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। তাই নির্ভরশীলতা কাটাতে এবং পুলিশকে স্বাবলম্বী করতেই ভেহিকেল মেকানিক কোর্স চালু করা হচ্ছে। পুলিশের কোটি কোটি টাকার সরকারি গাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাশ্রয় করতে জামালপুরের ৪০ একর জায়গায় আগামী মাস থেকে এই কোর্স চালু করা হচ্ছে। এতে প্রতি বছর ১০০ থেকে ১২০ জন মেকানিক তৈরি হবে, যা চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে পুলিশকে এই খাতে শতভাগ স্বাবলম্বী করে তুলবে। এতে করে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ অপচয় রোধ হবে, অন্যদিকে বাহিনীর নিজস্ব মেকানিকদের মাধ্যমে পুলিশ বহরের গাড়িগুলোর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সারাবাংলা: প্রতিবছর কত সংখ্যক সদস্য ট্রেনিং নিচ্ছে?

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: মূলত সাব-ইন্সপেক্টর এবং ট্রাফিক সার্জেন্টদের সমন্বয়ে ৫০ জনের ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিবছর ৩০০ থেকে ৫০০ জনকে ট্রাফিক দুর্ঘটনা তদন্তে বিশেষজ্ঞ পুলিশ সদস্য হিসেবে তৈরি করা হয়।

সারাবাংলা: দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতিতে টিডিএস-কে সরকার কীভাবে দেখছে বা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে কিনা?

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: হ্যাঁ, সরকার তো সবসময় চায় যে, ট্রেনিং সেন্টারগুলো যেন ফ্লারিশ করে, আরও বড় আকারে কিছু করে। এটা সরকার সবসময় চায়, আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই এসব আমরা করতে পারছি। সরকার আমাদের দিচ্ছে, আমরাও চেষ্টা করছি সরকারকে সহায়তা করার, বাংলাদেশ পুলিশকে সহায়তা করার- বিশেষ করে এই বিভিন্ন ট্রেনিং দিয়ে। কারণ, ট্রেনিংয়ের বিকল্প নেই। যদি ট্রেনিং না দেওয়া হয়, আপনি এটা ফ্রুটফুলি ইমপ্লিমেন্ট করতে পারবেন না। ইমপ্লিমেন্ট করতে গেলে ট্রেনিং লাগবেই।

সারাবাংলা: বর্তমানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এআই সংযুক্ত করা হয়েছে, এই ধরণের আর কোনো পরিকল্পনা বা উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না?

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: উদ্যোগ নিচ্ছি। আমরা বিভিন্ন ইক্যুইপমেন্ট শেখাচ্ছি, যেমন ব্রেথ অ্যানালাইজার। ব্রেথ অ্যানালাইজার হলো কোনো গাড়ি যদি জোরে চালায়, গাড়ির ড্রাইভারকে থামিয়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস অ্যালকোহলিক কিনা সেটা যাচাই করা। অথবা আরএফআইডি আছে। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে ধরা পড়বে এই ডিভাইসে। তারপরে আমাদের স্পিড গান কীভাবে ব্যবহার করা যায় সেই টেকনোলজি আমরা শেখাচ্ছি। তবে এআই চমৎকার কাজ করছে। কয়েকদিন আগে একটা সিগনেচারে দেখলাম যে, আমার এক অফিসার সে ট্রাফিক রুলস ভঙ্গ করছে, চিঠি চলে আসছে জরিমানার। আর এটা কিন্তু সরকার দেবে না, অফিস দেবে না, তাকেই দিতে হবে। জিনিসটা বুঝতে পারছেন? আমি কিন্তু একজন পুলিশ সদস্য হয়েও আইন ভঙ্গ করলে আমাকে এআই ক্যামেরা ছাড়বে না।

সারাবাংলা: ৫ আগস্ট পরবর্তী ট্রাফিক পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনতে আপনারা কোনো উদ্যোগ নিয়েছিলেন কিনা এবং তারা এখন পুরোপুরি ফিট কিনা?

মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: ৫ আগস্টের পর পুলিশের মনোবল বাড়াতে আমরা এখানে মোটিভেশন সেশন চালু করেছিলাম। ২০২৪-এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি নিজেই একটা ক্রাশ প্রোগ্রাম নিয়েছি। প্রতি ব্যাচে প্রতি সপ্তাহে একটি সেশন নিই। এই মোটিভেশনাল সেশনটি ছিল আমাদের অতীত ইতিহাস। আমরা কী করেছি, কেন আমাদের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব ছিল, কী মনোমালিন্য- এগুলো খুঁজে বের করা এবং এ থেকে উত্তরণের পদক্ষেপ নেওয়া। এভাবে একটি বছর তাদের মোটিভেশনাল দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে, সেখানেও আমি একটি কোর্স রেখেছিলাম। অতীত ইতিহাসকে মাথায় রেখে কীভাবে জনবান্ধব পুলিশ করা যায় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বা জুলাই গণআন্দোলন যাই বলেন না কেন, আমাদের ট্রাফিকের ওপর কিন্তু চাপটা আসে নাই। কেন আসে নাই? কারণ, আমরা আসলে অপারেশনাল কোনো কাজে ন্যস্ত ছিলাম না। তার পরও আমরা মনে করি, বিশেষ করে আমি মনে করি যে, আমাদের যেহেতু পুলিশের একটা শাখা এবং আমরা সবাই পুলিশ, আমাদের ‘ইউজ অব ফোর্স’ জানতে হবে। প্রত্যেক সদস্যের জানা উচিত যে, আমার কতটুক পাওয়ার দেওয়া আছে আইনে এবং এই পাওয়ারটা আমি কতটুক পর্যন্ত ইমপ্লিমেন্ট করতে পারব। এটা যদি না জানা থাকে, তাহলে কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, সেজন্য আমি আমার পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি। আর সেই চেষ্টায় হলো প্রতি ব্যাচে দুই-তিনটা সেশন রাখা ‘ইউজ অব ফোর্স’র ওপর।

বিজ্ঞাপন

আরো

মেহেদী হাসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর