মানিকগঞ্জ: যমুনা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিপন্ন প্রজাতির ৪১ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ। পরে মাছটি দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চর বাজারে ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে, বন অধিদফতর জানায়, বাঘাইড় বিপন্ন প্রজাতির মাছ এবং এটি ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোররাতে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চর এলাকার যমুনা নদীতে জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সকালে মাছটি বাঘুটিয়া চর বাজারে নিয়ে আসেন তারা। সেখানে মাছটির ওজন করা হয় ৪১ কেজি।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, মো. আসিফ মিয়া, মো. ওহাব মোল্লা ও মো. মতিন শেখ যমুনা নদীতে মাছ ধরছিলেন। ভোররাতে তাঁদের জালে বিশাল আকারের বাঘাইড়টি ধরা পড়ে। পরে বাজারে নিয়ে এলে মাছটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা।
বাঘুটিয়া চর এলাকার সৌদি প্রবাসী মো. জাকির হোসাইন মাছটি কিনে নেন। প্রতি কেজি ১ হাজার ৩০০ টাকা হিসাবে ৪১ কেজি মাছটির দাম পড়ে ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা। তবে স্থানীয়দের হিসাবে মাছটি ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাঘুটিয়া বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রহিজুল বলেন, জেলেরা যমুনা নদী থেকে মাছটি ধরে বাজারে নিয়ে আসেন। পরে জাকির হোসাইন মাছটি কিনে নেন।
এদিকে, এত বড় একটি বিপন্ন প্রজাতির মাছ প্রকাশ্যে বাজারে বিক্রি হলেও বিষয়টি জানেন না জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা।
দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার তন্বী বলেন, বন অধিদফতরের পক্ষ থেকে বাঘাইড় মাছ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাঘাইড় মাছ ধরা পড়ার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, বাঘাইড়কে বন অধিদফতর বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ মাছ ধরা নিষিদ্ধ। মৎস্য বিভাগ থেকেও এ ধরনের মাছ না ধরতে জেলেদের নিরুৎসাহিত করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপন্ন এই মাছের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নদীতে শিকার বন্ধে কার্যকর নজরদারি না থাকায় জেলেদের জালে নিয়মিতই এমন মাছ ধরা পড়ছে। আর ধরা পড়ার পর সেগুলো বাজারে হাক ডাকে বিক্রি হয়।