Friday 28 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ডিবির ৮ সদস্যের বিরুদ্ধে ৩ যুবককে অপহরণ ও টাকা লুটের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৮ আগস্ট ২০২৬ ১০:০২

ভুক্তভোগী তিন যুবক।

রংপুর: রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে তিন যুবককে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ট্যাগ দিয়ে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী বুলবুল আহাম্মেদ গত ২৩ আগস্ট রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ডিবি পুলিশের এসআই আবু সাইদ বাবলা, কনস্টেবল আতিক, মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) শরিফুল ইসলামের দেহরক্ষী কনস্টেবল মোসলেম উদ্দিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে নতুন মোবাইল ফোন কেনার জন্য রংপুর নগরীতে আসেন তিন বন্ধু—হাবিব হাসান লিমন, বিপ্লব হোসেন ও বুলবুল আহাম্মেদ। পছন্দের ফোন দামে না পাওয়ায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন।

নগরীর বুড়িরহাট সংলগ্ন আনান সিটির সামনে পৌঁছালে ডিবি পুলিশের এসআই আবু সাইদ বাবলার নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি দল তাদের গতিরোধ করে। কোনো কারণ না জানিয়েই দেহ তল্লাশি করে তাদের কাছে থাকা ৭৪ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।

এরপর তাদের জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে জাহাজ কোম্পানি এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে হাতকড়া পরিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে পায়ের তলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়।

রাত আনুমানিক ৩টায় তাদের ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এসআই আবু সাইদ বাবলা বুলবুলের মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি নম্বরে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে আটক তিন যুবকের পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য ফোন করে তাদের পায়ের তলায় মারধর করা হয়।

পরদিন ভোর ৬টায় ডিবি পুলিশের দুই সদস্য গঙ্গাচড়া থানাধীন মহিপুর ব্রিজে গিয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবারের পাঠানো ৩ লাখ টাকা নেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে তিনটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের মোটরসাইকেল ফেরত দিলেও তিনটি মোবাইল ফোন এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি।

রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসআই বাবলার মোবাইল ফোনের সিডিআর পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ভুক্তভোগীরা জানান, হোটেল ও ডিবি অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং মোবাইলে টাকা চাওয়ার কথোপকথনের রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। তবে এখনও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং তারা উলটো হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই আবু সাইদ বাবলার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।