Friday 28 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জমিতে রেলের ওয়ার্কশপ হবে: সচিব

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১২ | আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১৪

রাজবাড়ীতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জমির ওপর বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি আধুনিক ওয়ার্কশপ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) শহিদ খুশি রেলওয়ে ময়দান, আজাদী ময়দান, লোকোশেড, রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি লোকোশেড বধ্যভূমিতে বৃক্ষ রোপন করেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম ওয়ার্কশপের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজবাড়ীতে ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালে এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ১০৫ একর জমিতে ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় এসেছে। ওয়ার্কশপটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে। এরইমধ্যে চীনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সম্প্রতি চীন সফরকালে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে এসেছেন। আশা করছি, বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে রাজবাড়ীর ১০৫ একর জমিতে ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এই ওয়ার্কশপ নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের থাকবার জন্য এখানে আবসন তৈরি করতে হবে। এটা তৈরি করতেও আমাদের রেলের জমির প্রয়োজন হবে। এজন্য হুটহাট করে এ চাচ্ছে ও চাচ্ছে আমরা দিয়ে দিতে পারি না। আমি দেখে গেলাম। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে রেলপথ মন্ত্রনালয়ের। আমরা চাচ্ছি সবকিছু সুন্দরভাবে ম্যানেজমেন্টের আওতায় নিয়ে আসা যায়।

তিনি বলেন, রাজবাড়ীতো রেলের অনেক স্থাপনা আছে, রেলের অনেক জমি রয়েছে। এটা বহু পুরোনো প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রেল সংস্থা। রাজবাড়ীকে রেলের শহর বলা হয়। প্রত্যেকটা জেলা উপজেলাতে খেলার মাঠ হবে। যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে এটির প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আমরা রাজবাড়ী শহিদ খুশি রেলওয়ে মাঠটির প্রস্তাবনা দিয়েছি। রেলের শর্ত বজায় রেখে এটা ভালো একটি মাঠ হবে রেলের মাঠ।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, আমি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে আসার পর প্রথম রাজবাড়ীতে এসেছি এবং বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছি। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে রাজবাড়ীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক জেলাতেই এমন একটি কমপ্যাক্ট জায়গা থাকা প্রয়োজন, যেখানে শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা গড়ে উঠতে পারে। পুরোনো অনেক জেলাতেই এ ধরনের জায়গা রয়েছে। রাজবাড়ীতেও শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশের জন্য এমন একটি জায়গার প্রয়োজন রয়েছে। আমি দেখলাম রেলওয়ে জায়গাতে একটি স্কুল রয়েছে, আরো কিছু স্থাপনা রয়েছে যেগুলো দরকার রয়েছে। এগুলো বাদ দিয়ে যদি কিছু করা যায় সেটা করা হবে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় একটি আর্কিটেকচারাল ডিজাইনও করা হয়েছে, যা আমি দেখেছি। ভালো লেগেছে। তবে সেটি সংশোধন করা লাগতে পারে কারণ জায়গায় এতটা নাও পাওয়া যেতে পারে। জেলার জন্য, জেলার উন্নতির জন্য, জনগনের জন্য অ্যাপাচার কমপ্লেক্স বা কিছু একটা করা যায় ভালো হবে। রেলের জমি ভবিষ্যতে বড় ধরনের কিছু করার জন্য লাগবে। যেমন ওয়ার্কশপ।

রাজবাড়ী রেলস্টেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে স্টেশনটি উত্তরমুখী রয়েছে। এটিকে দক্ষিণমুখী করার একটি প্রস্তাবনা রয়েছে। স্টেশনের যে ডিজাইনটি তিনি দেখেছেন, সেটি আধুনিক ও হাইস্পিড ট্রেন চলাচলের উপযোগী বলে মনে হয়েছে। তবে এজন্য স্টেশনটি রি-মডেলিং করতে হবে। এ কাজ রাজস্ব খাতের অর্থায়নে করা সম্ভব নয়। তাই আলাদাভাবে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে রাজবাড়ী রেলস্টেশনের আধুনিকায়নের কাজ করতে হবে।

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, রেলওয়ে, জেলা প্রশাসক, পৌরসভার কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর