রংপুর: রংপুরে আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নতুন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ জানিয়েছেন, তদন্তে পুরোদমে কাজ চলছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে মাছুয়াপাড়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় যে প্রশ্নগুলো আসবে, সেগুলোর পেশাদারিত্বের সঙ্গে উত্তর খোঁজাই তাদের দায়িত্ব।
এদিন সকালে তিনি তার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাদক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি আসামি সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের অভিযোগ, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাহবুবুর রশীদ বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো শুনেছি। আমি রংপুরে গতকাল যোগদান করেছি। আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। এটা ক্রাইমসিন, সেটাকে সংগ্রহ করা আছে। এ ধরনের ঘটনায় কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই। তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোনো ক্লু আসলে আমরা তা তদন্ত করব।’
নতুন কমিশনার বলেন, ‘এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে। মামলা নিয়ে সারাদেশে নানা রকম কথাবার্তা হচ্ছে। প্রতিটি কথাবার্তার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ জবাবদিহির মাধ্যমে মামলাটিকে সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করাই আমাদের লক্ষ্য। যাতে সুবিচার নিশ্চিত হয়।’
রংপুরের মাদক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মাদক শুধু রংপুরের সমস্যা নয়, এটা দেশের সমস্যা। এই মুহূর্তে এটা সামাজিক সমস্যা। আমি আজ সকালে আমার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছি, কথা বলেছি এবং তাদেরকে সময় দিয়েছি। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখতে পারবেন।’
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ার তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও পঞ্চম শ্রেণির ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।