Monday 31 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পাবনায় ২ সপ্তাহের ব্যবধানে বিএনপির পালটা কমিটি, সমালোচনার ঝড়

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৬ ২২:১৮ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬ ২২:২১

‎পাবনা: ‎জেলার ঈশ্বরদীতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগের কমিটি ঘোষণার প্রায় ২ সপ্তাহের ব্যবধানে এবার উপজেলা ও পৌর বিএনপির পালটা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

‎ঘোষিত কমিটিতে ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে পাকশীর জাহাঙ্গীর আলমকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে সাহাপুরের সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদারকে। অন্যদিকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইসলাম হোসেন জুয়েলকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে আনোয়ার হোসেন জনিকে।

বিজ্ঞাপন



‎এর আগে গত ১৬ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ও সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকারের সইয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটির অনুমোদনের বিজ্ঞপ্তি শনিবার (২২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

‎আগের ঘোষিত কমিটিতে ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে এবং সদস্যসচিব করা হয় শরিফুল ইসলাম তুহিনকে। আর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় মাহবুবুর রহমান পলাশকে এবং সদস্যসচিব করা হয় ইমরুল কায়েস সুমনকে।

‎ওই কমিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ঈশ্বরদীর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একপর্যায়ে কমিটি বাতিলের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। পরে সংবাদ সম্মেলন করেও ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবি জানানো হয়।



‎এছাড়াও ওই কমিটিতে আদালত কর্তৃক এক বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানায় দণ্ডিত হওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব পদ পেয়েছেন মো. ইমরুল কায়েস সুমন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে এমন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদ দেওয়ায় পদবঞ্চিত নেতাকর্মী ও তৃণমূলের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎এরই মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে গত রোববার( ৩০ আগস্ট) নতুন করে উপজেলা ও পৌর বিএনপির পাল্টা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎একই দলের উপজেলা ও পৌর শাখায় পরপর দুই ধরনের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীর বিএনপির রাজনীতিতে বিভক্তি আরও প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা তো শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি করি। কোনো কিছু পাওয়ার আশায় দল করি না। কিন্তু দলের মধ্যে কী যে শুরু হয়েছে, তা বুঝতে পারছি না। কয়েক দিন আগেই একটি কমিটি দেওয়া হলো, আবার এখন সেই কমিটির পাশাপাশি আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।’

আরেক বিএনপি কর্মী অভিযোগ করে বলেন, ‘ঈশ্বরদীর যেসব বিএনপি নেতা এখন এসব করছেন, তারা প্রকৃত অর্থে বিএনপির আদর্শের রাজনীতি করেন না। তারা স্বার্থবাদী ও গ্রুপিংয়ের রাজনীতি করেন। নিজেদের ভাই-গ্রুপ তৈরি করে রাজনীতি করেন। তাদের মধ্যে বিএনপির আদর্শের চর্চা নেই।’

সদ্য পালটা কমিটি ঘোষণা করা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু বলেন, ‘তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে না—এমন আশঙ্কা থেকেই প্রতিবাদস্বরূপ এই কমিটি ঘোষণা করেছি। ঈশ্বরদীতে ৭-৮ বছর ধরে কোনো কমিটি নেই। সম্প্রতি যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা না করেই করা হয়েছে। আমরা ওই অগণতান্ত্রিক কমিটির প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাই করেছি।’

এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রায় ১৫ দিন আগে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে কমিটি ঘোষণা করেছি। আমাদের ঘোষিত কমিটির একটি সাংগঠনিক মূল্য আছে। গতকাল যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেটির কোনো সাংগঠনিক বৈধতা বা মূল্য নেই—এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। যে কেউ যখন-তখন একটি কমিটি ঘোষণা করলেই কি সেটি বৈধ হয়ে যায়?’

‎তিনি আরও বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই কমিটি ঘোষণা করতে হয়। সুতরাং এভাবে কেউ কমিটি ঘোষণা করলেই সেটিকে বিএনপির বৈধ কমিটি বলা যাবে না।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, জেলা বিএনপি’র ঘোষণা বা সাংগঠনিক নিয়ম ছাড়া কোন কমিটি করা যায় না। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ কমিটি। বিএনপি’র ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বহিষ্কৃত বিএনপির নেতা জাকারিয়া পিন্টু এই কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

উদ্ভূত সংকট সমাধানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের স্মরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হাবিবুর রহমান হাবিব আরও বলেন, জাকারিয়া পিন্টু ২০০১ সাল থেকে ৮টি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সে বার বার দলের হাউকমান্ডের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নিজ ভাইকে হত্যাসহ বহু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আছে। এ কারণে জাকারিয়া পিন্টুকে একাধিকবার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ কমিটি দেওয়ার পিছনে চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর ঈশ্বরদীর প্রায় প্রতিটি জায়গা থেকে জাকারিয়া পিন্টু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ড যেন হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্যই অনুগত ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে পালটা কমিটি ঘোষণা করে সে। জাকারিয়া পিন্টুর এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর