চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের কামড় ও আঁচড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামি ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এতে ৩ পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া মূল আসামি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকেও (২৮) শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপের মসজিদ ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- বোয়ালখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল হালিম (৪৮), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাসুম বিল্লাহ (৩৫) ও কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২)। পরে তারা বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। এছাড়া আহত অন্য দুজনের মধ্যে রয়েছেন- মামলার বাদী আবদুল মান্নান (৫৫) এবং মোক্তার হোসেন (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর করলডেঙ্গা শিকদার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আবদুল মান্নান নামের এক ব্যক্তি আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। রোববার রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও মামলার বাদী আবদুল মান্নান মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করতে যৌথ অভিযান চালান। অভিযান চলাকালে আসামিপক্ষের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মহিউদ্দিনকে ধরতে গেলে সে পুলিশ সদস্যদের হাতে কামড় ও আঁচড় দেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আসামি মহিউদ্দিন পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যায়। তবে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, পরবর্তীতে সে পুলিশের কাছে ধরা দেয়।
এদিকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রাম পুলিশ সদস্য জেবল হোসাইনকে আটক করেছে পুলিশ। ওসি মোজাফফর হোসেন জানান, আটক জেবল হোসাইন মূল মামলার আসামি না হলেও তিনি পালিয়ে যাওয়া আসামি মহিউদ্দিনের আত্মীয়। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।