টানা রাতভর বৃষ্টি ও সকালে অব্যাহত ভারী বর্ষণে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কেটের প্রবেশপথ, নিচতলার দোকান এবং আশপাশের সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুলতে পারেননি, আবার যাদের দোকানে পানি ঢুকেছে তারা মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতেই দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিউ মার্কেটের বিভিন্ন ব্লকের নিচতলার দোকানগুলোতে পানি ঢুকে পোশাক, জুতা, ব্যাগ, প্রসাধনী ও অন্যান্য পণ্য ভিজে গেছে। দোকানের সামনে জমে থাকা পানির কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল খুবই কম। অনেক দোকানের শাটার বন্ধ ছিল, আর খোলা দোকানগুলোর কর্মচারীরা পানি সেচে বের করা এবং ভেজা মালামাল শুকানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
আজিমপুর কবরস্থানের পানিও এসে মিশেছে নিউ মার্কেটের সামনে। নিউ মার্কেট পিলখানা রোড যেন পরিণত হয়েছে ছোটখাটো নদীতে। আর তাতেই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নিউ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা।
নিউ মার্কেটের পোশাক ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন বলেন, নতুন করে আনা কয়েক কার্টন পোশাক ভিজে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সকালেই দোকানে এসে দেখেন ভেতরে পানি জমে আছে। এমন অবস্থায় দোকান খোলা কষ্টকর। একদিন দোকান বন্ধ থাকলেই ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো ক্ষতি হয়। কিন্তু দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতন ও অন্যান্য খরচ তো ঠিকই দিতে হয়।’

জুতার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতারা আসতে চান না, ফলে বিক্রিও কমে যায়।’
তিনি বলেন, ‘দোকানে পানি ঢুকে কিছু পণ্য নষ্ট হয়েছে। এখন সেগুলো কম দামে বিক্রি করতে হবে। স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে এই ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।’
জলাবদ্ধতার কারণে নিউ মার্কেটের কয়েকটি ব্লকের নিচতলার বিদ্যুৎ সংযোগ নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে অনেক ব্যবসায়ী চাইলেও দোকান চালু করতে পারেননি। মার্কেট কর্তৃপক্ষ জানায়, পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
এদিকে মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। চা, ফল, ফাস্টফুড ও অন্যান্য অস্থায়ী দোকানের অনেকগুলোই বন্ধ ছিল। যারা দোকান খুলেছেন, তারাও পর্যাপ্ত ক্রেতা পাননি।

ফল বিক্রেতা মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘সকালে ফল নিয়ে এলেও বৃষ্টির কারণে দোকান সাজাতে পারিনি। দুপুর পর্যন্ত তেমন কোনো বিক্রি হয়নি। প্রতিদিনের আয়ের ওপরই আমাদের সংসার চলে।’
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘প্রতি বর্ষায় নিউ মার্কেটে একই ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও এখনো কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তারা দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।’