Wednesday 02 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ওয়ালটন হাই-টেকের ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ

সারাবাংলা ডেস্ক
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:২১

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আর্থিক সক্ষমতা ও পরিচালন দক্ষতায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ৫৪তম সভায় চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদনের পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডাররা ১৮ টাকা নগদ লভ্যাংশ এবং প্রতি ১০টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি (০১) করে বোনাস শেয়ার পাবেন।

বিজ্ঞাপন

কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ১২৪ কোটি ৫৭ লাখ ৮ হাজার ৪৯৪ টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা হয়েছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৩ টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৭৫ পয়সা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩১ টাকা ১১ পয়সা। কোম্পানির আয় বৃদ্ধির পেছনে নিট রেভিনিউ গত বছরের চেয়ে ৩২২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং অর্থায়ন ব্যয় ২৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা হ্রাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগের অর্থবছরে অর্থায়ন ব্যয় ছিল ৪৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা বিক্রয়ের ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ; চলতি অর্থবছরে তা কমে বিক্রয়ের ২ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৬৩ টাকা ৭২ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৫২ টাকা ৯১ পয়সা। এ উন্নতির পেছনে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ৬৯৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি এবং সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ ২ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে আসা প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুনর্মূল্যায়নসহ ওয়ালটনের মোট নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল প্রায় ১২ হাজার ১০৯ কোটি টাকা। পুনর্মূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বেড়ে হয়েছে ৩৮১ টাকা ২৬ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩৬৩ টাকা ৪০ পয়সা। পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্যও ২৬২ টাকা ৮ পয়সা
থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা ২৪ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ কোম্পানির চলমান গ্রিন এনার্জি সক্ষমতা সম্প্রসারণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং অন্যান্য আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণমূলক (ইগজঊ) কার্যক্রমে অর্থায়নের লক্ষ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। এ স্টক লভ্যাংশ সম্পূর্ণভাবে রিটেইনড আর্নিংস থেকে প্রদান করা হবে।

লভ্যাংশ প্রাপ্তির জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

কোম্পানির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ড ডেটে যেসব শেয়ারহোল্ডারের নাম সিডিবিএল ডিপোজিটরি রেজিস্টারে থাকবে, তারা ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার পাশাপাশি এজিএমে অংশগ্রহণের যোগ্য হবেন।

ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন খাতে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির স্বাভাবিক ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে কোম্পানির দক্ষ ম্যানেজমেন্ট। ফলে নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও গত হিসাব বছরে কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ১২৪ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা। ভবিষ্যতেও মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে কোম্পানি আরো সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে বলে দৃঢ় আশাবাদী ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর