হরমুজ প্রণালিতে দুটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত আটজন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের দুটি দেশীয় ট্যাংকারকে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহত পালটাপালটি হামলার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, ওমানের জলসীমার ভেতরে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ শিপিং লেন দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ট্যাঙ্কার মোম্বাসা ও আল বাহিয়াহ।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় একজন ক্রু নিহত হয়েছেন, যিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া আরও আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর । ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উভয় ট্যাঙ্কারেই আগুন ধরে যায় এবং এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবে বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনীয় নাগরিক বলে এক্সে দেওয়া সেই বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তি নষ্ট করছে।
পরে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা দাবি করে, দুটি ট্যাংকার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল, নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করেছিল এবং মাইন পাতা একটি রুট দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
এর প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি জানায়, তারা ট্যাংকার দুটিতে আঘাত হানে এবং সেগুলোকে অচল করে দেয়।
তারা আরও বলে, ‘আগ্রাসী শত্রুকে’ সহযোগিতা করলে শেষ পর্যন্ত অনুশোচনা, ক্ষতি এবং প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব হবে, পাশাপাশি “বিশ্বে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি” হবে।
হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। রোববার রাতে অঞ্চলে হামলা বিনিময়ের পর সোমবার উভয় পক্ষ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুনরায় সংঘাতে জড়ায়। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হতো এই পথ দিয়েই।