ঢাকা: ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে প্রচার শুরু করেছে ভারত। প্রচারের শুরুতে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিউইয়র্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রচার শুরু করে নয়াদিল্লি। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, ‘বিশ্ব বর্তমানে নজিরবিহীন সংঘাত, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও সক্ষম জাতিসংঘ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের লক্ষ্য এমন একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে ভারত।’
জয়শঙ্কর জানান, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভারত ‘শান্তি’ নামে একটি নীতিগত কাঠামো অনুসরণ করবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের প্রতি সম্মান, পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মিলিত অগ্রগতির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ভারতের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশটি এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় তিন লাখ সদস্য পাঠিয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘের ১০টি সক্রিয় মিশনে চার হাজার ৩০০-এর বেশি ভারতীয় শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।’
এ ছাড়া বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার, দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন, সামুদ্রিক বাণিজ্য সুরক্ষা এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে ভারতের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর খাদ্য, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কল্যাণে দেশটির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।’
বক্তব্যের শেষে জয়শঙ্কর জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ভারতের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের উপস্থিতি জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে এবং একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গঠনে ভূমিকা রাখবে।’