নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন দিন পর পাঁচ বছরের এক কন্যাশিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রসুয়া জেলার তিমুড়ে গ্রামের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, মনীষা সুস্থ হয়ে উঠছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, রুসওয়া জেলার সিয়াব্রুবেসির কাছে উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের সন্ধান করছিলেন, এমন সময় তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা একটি বিড়ালের ডাক শুনতে পান। বিড়ালের ডাক শুনে কাছে এগিয়ে গেলে মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) সদস্যরা। তখনই তারা শিশুটিকে খুঁজে পায়।
এরপর দ্রুত মাটি খুঁড়ে তারা শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনেন। পরে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ওই শিশুকন্যার নাম মনিষা মগার।
নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একজন পুলিশ কর্মকর্তা সঞ্জু খাত্রী বলেন, উদ্ধারকারী দলগুলো এলাকাটিতে তল্লাশি চালায় এবং ধ্বংসাবশেষ সরাতে শুরু করে। তখনই তারা মনীষাকে খুঁজে পায়, যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিল।
ওই কর্মকর্তা জানান, সে জীবিত ছিল কিন্তু তার কোনো সাড়া ছিল না। উদ্ধারকারী দল একটি হেলিকপ্টারের জন্য ফোন করেছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।
এরপর উদ্ধারকারী দলগুলো তাকে বাহিনীর উদ্ধার শিবিরে নিয়ে যায় এবং পানি পান করায়। কিছুক্ষণ পর মনীষার জ্ঞান ফিরলে তাকে বাঁচানোর জন্য সেদ্ধ ভাতের মাড় খাওয়ানো শুরু করা হয়।
সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। পরে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে তাকে বিমানে করে কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালের শিশু জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাচ্চাটির উদ্ধারের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে জীবিত বের করে আনার মুহূর্তটি দেখানো হয়েছে। তাকে উদ্ধার করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
সুস্থ হওয়ার পর মনীষা হাসপাতালে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হয়েছে।