Tuesday 14 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পরিবারকে না জানিয়ে গার্মেন্টসকর্মীর মরদেহ দাফন, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেট
১৪ জুলাই ২০২৬ ১৮:২১

ঢাকা: ঢাকার আশুলিয়ায় গার্মেন্টসকর্মী আমেনা বেগমের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে দাফন করার ঘটনায় তার স্বামী অলিউল্লাহ ওরফে শহিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে নিহতের বোন রুবিনা বেগম মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ ঘটনায় আগে কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মীর আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে আমেনা বেগমের প্রথম বিয়ে হয়। পরের বছর লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার প্রথম স্বামীর মৃত্যু হলে দুই মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে তিনি জীবনযাপন শুরু করেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অবস্থিত ‘আমার স্পিনিং মিলস লিমিটেড’-এ অপারেটর হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। একই প্রতিষ্ঠানে তার বোন নুরজাহানও কর্মরত ছিলেন, তবে ভিন্ন ফ্লোর ও শিফটে কাজ করায় তাদের দেখা-সাক্ষাৎ কম হতো।

বিজ্ঞাপন

একই প্রতিষ্ঠানের কর্মী অলিউল্লাহ ওরফে শহিদের সঙ্গে পরিচয়ের পর ২০২৪ সালের শেষ দিকে তাদের বিয়ে হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই শহিদ আমেনার মোবাইল ফোন নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতেন না। একপর্যায়ে আমেনা স্বামীর ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের জানান, তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নেই।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে আমেনার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মে মাসের শেষ দিকে বোন নুরজাহান তার বাসায় গিয়ে জানতে পারেন, তারা অন্যত্র বাসা পরিবর্তন করেছেন। পরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নতুন ঠিকানায় গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমেনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানানো হয়। এরপর থেকেই শহিদ পলাতক রয়েছেন।

পরিবারের দাবি, পুলিশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে শিমুলতলার দরগারপাড় কবরস্থানে আমেনার মরদেহ দাফন করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে, শহিদ প্রায়ই আমেনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিনও তাকে মারধর করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর আমেনাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

এদিকে, আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের সময় পরিবারের কোনো সদস্যকে খুঁজে না পাওয়ায় এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

সারাবাংলা/টিএম/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর