ঢাকা: সাম্প্রতিক বন্যায় আমন ধানের আবাদে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে রোপণ মৌসুম শুরুর আগেই অধিকাংশ বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চারা নষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি খামারে জরুরি ভিত্তিতে নতুন বীজতলা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের চারা সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ এ তথ্য জানান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় এখনো ব্যাপকভাবে আমন রোপণ শুরু না হওয়ায় বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা কমেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধানের বীজতলায়। অনেক কৃষক বীজ ফেলেছিলেন এবং ১০ থেকে ১৫ দিনের কোমল চারাগুলো বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অনেক এলাকায় এখন ধানের চারা প্রায় নেই বললেই চলে।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) নিজস্ব জমিতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন বীজতলা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে উৎপাদিত চারা পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিতরণ করা হবে।
মন্ত্রী জানান, কৃষি বিভাগের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ে কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কোথায় কত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোন কৃষকের কী পরিমাণ চারা প্রয়োজন—এসব তথ্য প্রতিনিয়ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ে এ জন্য একটি বিশেষ মনিটরিং সেলও চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব জমিতে আগে থেকেই ধান রোপণ করা হয়েছিল, সেখানে বন্যার পানিতে সার ধুয়ে যাওয়ায় নতুন করে সার প্রয়োগ করতে হবে। কৃষকদের সেই বিষয়েও প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে।
আমিনুর রশিদ আরও বলেন, বন্যায় শুধু ফসল নয়, গবাদিপশুর খাদ্যও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খড়, ঘাস ও পশুখাদ্যের অনেকটাই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে কৃষির পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে কৃষকরা অতিরিক্ত ক্ষতির মুখে না পড়েন।
তিনি বলেন, কৃষকদের ক্ষতি কমিয়ে দ্রুত আমন আবাদ স্বাভাবিক করতে কৃষি মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এছাড়া গবাদি পশুর জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও মন্ত্রী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন উপস্থিত ছিলেন।