Thursday 27 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঐতিহাসিক ‘আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেট’ রক্ষায় আইনি বিজয়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৪৯

হাইকোর্ট।

ঢাকা: প্রায় দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো ঐতিহাসিক আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। একাধিক আদালতের রায় এবং ওয়াকফ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নবাব পরিবারের উত্তরসূরি ব্যারিস্টার ড. খাজা ইকবাল এহসান উল্লাহকে বৈধ মোতাওয়াল্লি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

পিটিশন নম্বর ৫৭৬৯ ও ৬৫০৪, ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর এবং পিটিশন নম্বর ১১৫৬২, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা পৃথক অফিস স্মারকের মাধ্যমে ব্যারিস্টার ড. খাজা ইকবাল এহসান উল্লাহকে এস্টেটের মোতাওয়াল্লি হিসেবে (ইসি ৪১১/এ, ৪১১/বি, ৪১১/সি, ৪১১/ডি) নিয়োগ দেওয়া হয়। ১১৫৬২ নম্বর পিটিশনসহ আদালতের একাধিক আদেশেও তার কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহাসিক দলিল অনুযায়ী, ১৮৫৪ এবং ১৮৭৭ সালে নিবন্ধিত তৌলিয়াতনামার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এই ওয়াকফ এস্টেট। দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, এস্টেটের মোতাওয়াল্লি নবাব পরিবারের বংশীয় পুরুষদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন। সেই ধারাবাহিকতায় নবাব খাজা আব্দুল আলিম উল্লাহ, নবাব স্যার খাজা আবদুল গণি, নবাব স্যার খাজা আহসান উল্লাহ, নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর, নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর, নবাব খাজা মেজর হাসান আসকারি, নবাব খাজা আহসানুল্লাহ, নবাব আব্দুল গনি (জুনিয়র) এবং ড. খাজা ইকবাল এহসান উল্লাহসহ নবাব পরিবারের বিভিন্ন সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে এস্টেট পরিচালনা করেন।

তবে মূল তৌলিয়াতনামা ও ওয়াকফ আইনের বিধান উপেক্ষা করে বহিরাগত বেশ কয়েকজনকে নিয়ে একটি কথিত মোতাওয়াল্লি কমিটি গঠন করা হয়; সেই সময় যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান আবুল কালাম আনসারি ওরফে জামাল। যদিও ৫৭৬৯ ও ৬৫০৪ নম্বর পিটিশনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট ২০১৫ সালের ১ জুলাই তারিখে তাকে অপসারণ করার নির্দেশ দেন।

এ প্রসেঙ্গ নবাব পরিবারের বংশানুক্রমে মোতাওয়াল্লি নবাব ড. ইকবাল এহসান উল্লাহ বলেন, ‘বহিরাগত বেশ কয়েকজনকে নিয়ে গঠিত এই কমিটি নবাব পরিবারের উত্তরাধিকারভিত্তিক মোতাওয়াল্লি ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়; যার পরিস্থিতিতে এস্টেট রক্ষায় আইনি লড়াই শুরু করেন নবাব পরিবারের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ড. খাজা ইকবাল এহসান উল্লাহ। তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১১৫৬২ নম্বর মামলাটি দায়ের করেন।’

এই মামলার প্রেক্ষিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ই. সি. নম্বর ৪১১ এ, ই. সি. নম্বর ৪১১ বি, ই. সি. নম্বর ৪১১ সি এবং ই. সি. নম্বর ৪১১ ডি-এর মোতাওয়াল্লি হিসেবে ড. খাজা ইকবাল এহসান উল্লাহকে তার কার্য সম্পাদনের জন্য নিয়োগ করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ৬১৬৮, ৬৫০৪, ৫৭৬৯ এবং ৮৬৩৬ নম্বর রিট পিটিশনগুলোর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, আবুল কালাম আনসারি ওরফে জামাল কোনোভাবেই নবাব পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং কোনো ক্ষমতাবলেই ওয়াকফ সম্পত্তিতে তার কোনো আইনানুগ স্বার্থ নেই।

পরবর্তীতে আবুল কালাম আনসারি ওরফে জামাল ৬৮৩৬ নম্বর রিট পিটিশন দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারকাজ শেষে সুপ্রিমকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়, এই রিট পিটিশনের আবেদনকারী অর্থাৎ আবুল কালাম আনসারি ওরফে জামালের এটি দাখিল করার এবং এই রিট পিটিশনটি আরও পর্যালোচনা করার কোনো আইনানুগ অধিকার নেই। সেই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিধিটি খারিজ করা হলো।

জানা গেছে, আদালতের এমন রায়ের পরও আবুল কালাম আনসারি ওরফে জামাল অবৈধভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ওয়াকফ সম্পত্তি লিজ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ ছাড়াও জানা যায়, এস্টেটের বিপুল পরিমাণ জমি বিভিন্ন সময়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগ প্লট আকারে বরাদ্দ, ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে আসছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন জরিপে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডও তৈরি করা হচ্ছে।

ড. খাজা ইকবাল এহসান উল্লাহ বলেন, ‘যে সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকফ হিসেবে নিবন্ধিত ছিল, তা কীভাবে ব্যক্তি মালিকানার নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে? এ বিষয়ে তদন্ত ও জবাবদিহি প্রয়োজন।’

এদিকে দীর্ঘ আইনি লড়াই, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং আদালতের বিভিন্ন রায়ের পর ঐতিহাসিক আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেট রক্ষায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ঐতিহাসিক এই সম্পত্তির সুরক্ষা, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং ওয়াকফের মূল উদ্দেশ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

সারাবাংলা/টিএম/এআর