ঢাকা: আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। এবারের অধিবেশনে জাতীয় সংসদের কার্যসূচি ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে রাষ্ট্রপতি এরই মধ্যে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত মেয়াদ নির্ধারিত হবে।
অধিবেশনের সার্বিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী এই অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। তবে, প্রাথমিকভাবে অধিবেশন পাঁচ থেকে ১০ দিনে সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে আদানির সঙ্গে সই করা বিদ্যুৎ চুক্তিটি ছিল দেশের বিরুদ্ধে করা একটি চরম গর্হিত অপরাধ। চুক্তির এমন কিছু ধারা ছিল যা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে, এবং উৎপাদন না থাকার পরও ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা দরকার।’
স্বল্পমেয়াদী এই অধিবেশনে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ বিল যেমন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন-২০২৬ এবং ব্যাংক রেজল্যুশন সংশোধন আইন-২০২৬ পাসের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের অধিকার সুরক্ষায় সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে যাতে তারা জীবিত থাকাকালে হস্তান্তরিত সম্পত্তির ভোগদখল ধরে রাখতে পারেন।
এ ছাড়া চলমান জ্বালানি সংকট, শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ধারা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বাকি থাকা ৩৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও গতি পেতে পারে।