ঢাকা: পণ্যের দাম সামান্য বাড়লেই ‘পেঁয়াজের ঝাল’ ধরনের শিরোনামের সংবাদ অযথা প্যানিক তৈরি হয়। এমন কাজ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক আবু সালেহ ইমরান।
তিনি বলেছেন, বাজারে পণ্যের দাম কমানো যেমন জরুরি, তেমনি উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, একতরফাভাবে দাম কমাতে গিয়ে কৃষক বা প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপরই পড়বে।
মঙ্গলবার(১ সেপ্টেম্বর) এফবিসিসিআই আয়োজিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
আবু সালেহ ইমরান বলেন, ‘কোনো পণ্যের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা হলে সেটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় এবং বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী ব্যবসায়ী সম্প্রদায় দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ এই নয় যে, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করতে হবে। আবার জনগণকে কম দামে পণ্য দিতে গিয়ে ব্যবসা ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়াও কোনো সমাধান নয়। উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
গরুর মাংসের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার চাইলে কোনো কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে দাম অনেক কমিয়ে আনতে পারে। কিন্তু এতে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের লাখ লাখ গরু পালনকারী কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাদের অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গবাদিপশু পালন করেন। দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে এসব কৃষকের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে। তাই শুধু ভোক্তার জন্য দাম কমানোর চিন্তা না করে উৎপাদক থেকে ভোক্তা—পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।’
চালের বাজার প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ পরামর্শক বলেন, ‘কোনো পণ্যের দাম কেন বাড়ছে, সেটি নিয়ে আরও গবেষণা ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানুষের ভোগের ধরণ ও চাহিদার পরিবর্তনও বিবেচনায় নিতে হবে। একসময় পোলাও চাল মূলত ঈদ, বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসেও এর ব্যবহার বাড়ছে। ফলে চাহিদার এই পরিবর্তনও বাজার বিশ্লেষণে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘বাজার স্থিতিশীল রাখতে শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে নজরদারি করলেই হবে না; আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আমদানি, ঋণপত্র (এলসি), মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
আবু সালেহ ইমরান বলেন, “ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনি কাঠামোতে কোথাও সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। এলসি-সংক্রান্ত যোগ্যতা ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগে যেসব বিষয়ে ব্যবসায়ীরা ‘গলা চেপে ধরা’ পরিস্থিতির কথা বলতেন, সেসব বিষয়ে এরই মধ্যে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অযৌক্তিক প্যানিক যাতে তৈরি না হয়, সেদিকেও গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’