Thursday 03 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এসআরবি গঠন মূলত নতুন মোড়কে র‍্যাবকে ফিরিয়ে আনা: নাহিদ ইসলাম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৩৩

সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করে তার জনবল দিয়েই আবার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রতিষ্ঠা করা মূলত নতুন মোড়কে র‍্যাবকে ফিরিয়ে আনার নামান্তর।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ বিল উত্থাপনকালে এর তীব্র বিরোধিতা করে এসব কথা জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এর মাধ্যমে মূলত র‍্যাবেরই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনকালে র‍্যাব নামক প্রতিষ্ঠানটি গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গোপন বন্দিশালা তথা আয়নাঘরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিল। সংসদে উপস্থিত অনেক সদস্যেরই সেই আয়নাঘরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি বা ১১ দলসহ সবারই একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল যে র‍্যাব বিলুপ্ত করা হবে। এমনকি বর্তমান সরকারি দল বিএনপি নির্বাচনের পূর্বে প্রেস ব্রিফিংয়ে এবং ফ্যাসিবাদী সময়েও বারবার র‍্যাব বিলুপ্তির কথা বলেছিল। তবে তখন তারা র‍্যাব বিলুপ্ত করে একই জনবল দিয়ে আরেকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা বলেনি।

বিজ্ঞাপন

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ সংসদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অতীতে এই র‍্যাবে সামরিক বাহিনীর ব্যক্তিবর্গকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সামরিক বাহিনী ও পুলিশ এই দুটি বাহিনীকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে নিপীড়ক হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন থেকে র‍্যাব বিলুপ্ত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। পুলিশের এই ধরনের বিশেষায়িত ইউনিটের আদৌ কোনো প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা নিয়ে তখনই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি ফ্যাসিবাদী আমলের একটি বড় দাগ, ক্ষতচিহ্ন এবং সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের প্রতীক। তাই কোনো নতুন রূপ দেওয়ার আগেই এটি প্রথমে পুরোপুরি বিলুপ্ত করা উচিত।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতে যদি পুলিশের বিশেষায়িত কোনো ইউনিটের প্রয়োজন মনে হয়, তবে তা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত ও বিশদ আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, সংসদে সঠিক আলোচনার মাধ্যমেই কেবল এ ধরনের কোনো বিল আনা যেতে পারে। তার আগ পর্যন্ত এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর