রংপুর: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম ভারতের উদ্দেশে বলেছেন, বাংলাদেশকে দাসত্ব করানো যাবে না।
সীমান্ত সমস্যা সমাধানে কাঁটাতারের বেড়া তুলে ফেলতে এবং পুশ-ইন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি রংপুর দখল করে নেবেন বলেন, আমরাও বলব কলকাতা দখল করে নেব।’
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ড. অলি আহমদ বলেন, ‘সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, তা না হলে ১১ দলীয় জোট মাঠে নামবে।’ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুরে এসে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থন কামনা করেছিলেন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সরকার গণভোট-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করেছেন এবং তিস্তা প্রকল্পের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখেননি, যা উত্তরবাসীকে হতাশ করেছে।’
সমাবেশে কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যাসহ সাম্প্রতিক সীমান্ত হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বক্তারা অবিলম্বে ভারতীয় আগ্রাসন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বক্তব্য দেন।
সমাবেশে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ১১ দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।