ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কাজ করতে দিচ্ছেন না এবং পুলিশ প্রশাসনও সহায়তা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-১৬ আসনের সার্বিক বিষয় নিয়ে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমাকে কাজ করতে দিচ্ছে না, প্রতিটি কাজে বাধা দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহায়তা করছে না। রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার তালাব ও মিল্লাত ক্যাম্পে যারা গুলি করেছে, হামলা করেছে, তাদের মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ। কিন্তু ভুক্তভোগী যারা তাদের মামলা গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসন হামলাকারীদের পক্ষ হয়ে কাজ করছে। আমি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের ওপর রাজনৈতিক কোনো নির্দিষ্ট তকমা দিয়ে হয়রানি বা সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গেল রমজান মাসে আমি একটি মসজিদে গিয়েছিলাম নামাজ পড়তে। সেখানের ইমাম আমাকে বলে স্যার আপনি চলে যান, তা না হলে আমার চাকরি থাকবে না। এমনও ঘটনা ঘটছে।’
নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর চাঁদা বন্ধ করার বিষয় জানিয়ে ঢাকা-১৬ আসনের এমপি বলেন, ‘মার্কেটগুলোতে চাঁদাবাজি বন্ধ করেছি। মার্কেটে গেলে ব্যবসায়ীরা জড়িয়ে ধরে। আর ফুটপাত সিটি করপোরেশনের আওতায়। কিন্তু তারা সঠিকভাবে সেখানে কাজ করছে না। বিরোধীদলকে সরকারের অংশ হিসেবে চিন্তা করতে হবে।’
কর্নেল বাতেন বলেন, ‘মিরপুর-১১-এর বিহারী অধ্যুষিত ক্যাম্পে মৃতদেহ গোসল করানোর জন্য কোনো স্থায়ী ও সম্মানজনক ব্যবস্থা ছিল না, যা দীর্ঘদিনের একটি মানবিক সমস্যা ছিল। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্যের আর্থিক সহায়তায় একটি ‘মাইয়্যেতের গোসলখানা’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, পানির পাম্প স্থাপনের অযুহাতে একটি বিশেষ পক্ষ এই জনকল্যাণমূলক কাজে বাধা প্রদান করে এবং গত ২৯ আগস্ট সশস্ত্র হামলা চালায়।’
হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রবেশ করে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চরম আতঙ্ক তৈরি করে। এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন সাধারণ মানুষ আহত হন এবং নির্মাণাধীন স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই হামলার সময় যথাযথ সুরক্ষা প্রদানের পরিবর্তে পরবর্তীতে নিরপরাধ ক্যাম্পবাসীদের ওপর প্রশাসনিক হয়রানি ও মামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। আমি এই আসনের সকল জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু কোনো নিরীহ নাগরিককে রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা দিয়ে অন্যায়ভাবে হয়রানি বা গুলিবর্ষণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের পল্লবী মধ্য থানা আমির রইসুল ইসলাম, পল্লবী উত্তর থানা আমির সাইফুল কাদের ও সেক্রেটারি জুবায়ের আহমেদ রাজন-সহ স্থানীয় নেতারা।