Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করে অর্থবিল পাস

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ জুন ২০২৬ ২০:২০ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ২২:২০

ঢাকা: প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা পৌনে ৪ লাখ টাকা বাড়িয়ে সংশোধিত বাজেটে চার লাখ টাকায় উন্নীত করে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়েছে।

সোমবার ( ২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থবিল ২০২৬ পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। এদিন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দল ও বিরোধী দলের নেতারা।

বাজেট আলোচনা অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করাসহ বেশ কিছু বিষয়ে সংশোধনী আনার অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো হয়। এর ফলে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা তাদের আয়ের ওপর আগামী অর্থবছরে সাড়ে তিন লাখ টাকার পরিবর্তে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলায় কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থাকলেও তা প্রত্যাহার করে অর্থবিল পাস করা হয়েছে। ফলে ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন লাগবে না। আগের মতো টিআইএন ছাড়াই ব্যাংক হিসাব খুলা যাবে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি–ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন এবং নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ছিল। অর্থবিলে সংশোধনী এনে এই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন, যা ১১ জুন বাজেট অধিবেশনে উত্থাপন করেছিলেন তিনি।

এছাড়াও বাজেটে প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের পার্থক্য নিরসনে এবারের বাজেটে অর্থবিলের মাধ্যমে একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছিল। তবে এটি কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সমালোচনার পর অর্থ বিল থেকে পুরো বিধানটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর বহাল রাখা হয়েছিল। অর্থবিলে তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ভ্যাট কমেছে। বিশেষ করে অনলাইন ভিডিওভিত্তিক সেবা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম ও হীরার অলংকারের ভ্যাট কাঠামো নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ৫০ পয়সা হারে উৎসে কর কাটার বিধান যুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে অর্থবিলে মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায়ের ভ্যাট এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার রাজস্ব ভাগের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। চিংড়িশিল্প, ওষুধশিল্প, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা, অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এছাড়াও তালিকাভুক্ত কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে ঘাটতির ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। তবে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ বিধানের বাইরে থাকবে। নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মূলধন বা বার্ষিক বিক্রি রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিসংঘের জন্য নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস–সংযোগ, মোবাইল আর্থিক সেবার মার্চেন্ট হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর