Saturday 04 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চাকরিচ্যুত ২৫৭ কর্মকর্তা / এইচএসবিসি’র বিরুদ্ধে বে-আইনি ছাঁটাই ও প্রতারণার অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩৭

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি’র বিরুদ্ধে বে-আইনিভাবে ছাঁটাই ও কর্পোরেট প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের অংশ হিসেবে ছাঁটাইকৃত প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ২৫৭ কর্মকর্তা।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে `এইচএসবিসি বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাবৃন্দ’ শীর্ষক ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এইচএসবিসি’র সাবেক কর্মকর্তা আলমগীর কবির।

নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩১ মার্চ এইচএসবিসি বাংলাদেশ রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এর ফলে একযোগে ২৫৭ কর্মকর্তা চাকরি হারান। তাদের অনেকেই ১৫ থেকে ২৫ বছর ধরে ব্যাংকটিতে কর্মরত ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আর চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুসরণ না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে এক ধরনের তথ্য ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে কর্মীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে তারা আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এইচএসবিসি কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো নথিতে তাদের ‘রিট্রেঞ্চড’ (ছাঁটাই) হিসেবে উল্লেখ করা হলেও কর্মীদের হাতে শ্রম আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী সাধারণ চাকরিচ্যুতির (টার্মিনেশন) চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ছাঁটাইজনিত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য আইনি সুবিধা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুতরা জানান, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় একই ধরনের পুনর্গঠনের সময় এইচএসবিসি কর্মীদের তুলনামূলক বেশি ক্ষতিপূরণ দিলেও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১৫ মাসের বেতনের সমপরিমাণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, চাকরিচ্যুতদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিলেও ওই নির্দেশনা ‘বাধ্যতামূলক নয়’ বলে আদালতে এইচএসবিসি দাবি করেছে। এতে করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এইচএসবিসির বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের ৯টি অভিযোগ আনা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় দ্বৈত নীতি অনুসরণ, শ্রম অধিদপ্তরকে অবহিত না করা, জ্যেষ্ঠতার নীতি না মানা, পুনর্নিয়োগে অগ্রাধিকার না দেওয়া, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি থেকে অর্থ কর্তন, ঋণ সমন্বয়ে শ্রম আইন লঙ্ঘন, হোম লোনের সুদের হার বৃদ্ধি, রিলিজ লেটার আটকে রাখা, কর্মীদের আইনি অধিকার ত্যাগের দলিলে স্বাক্ষর নিতে চাপ দেওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত উপেক্ষা করা।

সংবাদ সম্মেলনে চাকরিচ্যুতি প্রক্রিয়া বাতিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যায্য সেভারেন্স ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন খাত থেকে কেটে নেওয়া অর্থ সুদসহ ফেরত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ লক্ষ্যে পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, শ্রম মন্ত্রণালয় ও শ্রম অধিদফতরের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তারা।