Monday 06 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ জুলাই ২০২৬ ২০:৩০

ঢাকা: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় শক্তিশালী থাকা এবং বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের উন্নতির প্রভাবে রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই শেষে দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৮৪৮ বিলিয়ন (৩৭ হাজার ৮৪৭ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-ষষ্ঠ সংস্করণ (বিপিএম-৬) অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৯৯ বিলিয়ন (৩৩ হাজার ১৯৯ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন) ডলার।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিভাগ (এফএআরএস) সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বর্তমানে রিজার্ভের দুটি হিসাব প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে গ্রস রিজার্ভে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা মোট বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হিসাবের ক্ষেত্রে এমন সম্পদ বাদ দেওয়া হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য নয়। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার সক্ষমতা মূল্যায়নে বিপিএম-৬ হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বৈদেশিক খাতে ধারাবাহিক উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের তুলনায় শক্তিশালী রয়েছে, রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। একই সঙ্গে আমদানি প্রবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত থাকায় ডলারের ওপর চাপ কমেছে। এর ফলে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালেন্স অব পেমেন্টস) উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হচ্ছে, যা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমে আসায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও বাজার থেকে ডলার কিনতে শুরু করেছে। এতে একদিকে বাজারে অতিরিক্ত ডলারের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সহজ হচ্ছে, অন্যদিকে রিজার্ভও শক্তিশালী হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান দেশের আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এই ধারা ধরে রাখতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর