Monday 06 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ জুলাই ২০২৬ ২১:১৪

ঢাকা: বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনও ৯ শতাংশের ওপরেই রয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে, যা আগের মাস মে-তে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। তবে এপ্রিলের পর টানা তিন মাস মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকল।

সোমবার(৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে গড় মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে বছরজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও তা এখনও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

বিজ্ঞাপন

বিবিএস-এর তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যস্ফীতির চিত্র এখনও উদ্বেগজনক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুনে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন ব্যয় ও বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে। এর প্রভাবই মূল্যস্ফীতিকে উচ্চ পর্যায়ে ধরে রেখেছে।

খাদ্য খাতে জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমেছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। তবে এক বছর আগে, ২০২৫ সালের জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমেছে। মে মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা জুনে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে আগের অর্থবছরের জুনে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ফলে এ খাতেও ব্যয় আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।

গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। জুনে গ্রামে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। একই সময়ে শহরে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

সার্বিকভাবে অর্থবছরের শেষে গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে। বিশেষ করে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই বছরের ব্যবধানে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ এখনও কাটেনি।