Sunday 12 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

দুর্নীতির মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তা কারাগারে

স্টাফ করেসপন্ডেট
১২ জুলাই ২০২৬ ১৮:৩৩

ঢাকা: সাড়ে ১৮ কোটি টাকা পাচার এবং রফতানি প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি।

তিনি জানান, হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পর গত ১৬ এপ্রিল ১১ আসামি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সেদিন আদালত তাদের জামিন পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত বহাল রাখেন। পরে তারা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে দুদকের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির ও মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. জয়নাল আবেদীন, রাজস্ব কর্মকর্তা জমির হোসেন, এ এইচ এম নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার, মো. মঞ্জুরুল হক এবং সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পালক।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন বাদী হয়ে ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পরের যোগসাজশে দো এম্পেক্স লিমিটেডের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য রফতানির ভুয়া তথ্য দেখিয়ে প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেশে আনেন। পাশাপাশি রফতানি প্রণোদনা হিসেবে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেন, যদিও বাস্তবে ওই পণ্য বিদেশে রফতানি করা হয়নি।

দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ করে। এর মধ্যে সাতটি চালানের রফতানির সত্যতা পাওয়া গেলেও বাকি ৩৪টি চালানের বিপরীতে কোনো পণ্য বিদেশে পাঠানো হয়নি। তবুও এসব চালানের বিপরীতে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭ দশমিক ৪৪ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার টাকা দেশে প্রত্যাবাসন দেখানো হয় এবং ওই ভিত্তিতে সরকারি প্রণোদনার অর্থ উত্তোলন করা হয়।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর