ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের একটি বড় অংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক ঘোষণায় তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল মজুদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প এই চুক্তির কাঠামো, সংশ্লিষ্ট তেলক্ষেত্র বা কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। তবে তিনি বলেছেন, এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনরুজ্জীবিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা দেলসি রদ্রিগেজও চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে দেশটির তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, অর্থনীতি চাঙা হবে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়বে।
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। তবে বছরের পর বছর বিনিয়োগের ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে দেশটি দিনে প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামের তেল পাবে, যা দেশটির পেট্রোলের দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে। ভেনেজুয়েলার জন্য চুক্তিটি প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ, হাজারো উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতি পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করবে।’
রদ্রিগেজ জানান, ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। এতে ভেনেজুয়েলা মোট ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার পর্যন্ত কর রাজস্ব পেতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এর মাধ্যমে বড় পরিসরে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে কি না, তা বলা কঠিন।
প্রসঙ্গত, ভেনেজুয়েলা ১৯৭০-এর দশকে দেশটির তেলশিল্প জাতীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএকে শিল্পটির কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। পরে প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সময়ে তেলশিল্পে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হয়। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত যৌথ উদ্যোগে যেতে বাধ্য করা এবং পরবর্তী সময়ে তাদের কিছু সম্পদ অধিগ্রহণের ফলে দেশটির তেলশিল্পে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ কমে যায়।