ঢাকা: বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার আগ্রহী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রফতানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ তুলে সফরটি সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার। পরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি ও অনিবন্ধিত শ্রমিকদের নিবন্ধন, বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদনে সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি, নির্মাণ খাত ও হালাল খাদ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় আট লাখ নিবন্ধিত বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। নতুন করে আরও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানরত অনিবন্ধিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জনশক্তি রফতানির পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।