Sunday 30 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এমএসএমই খাতে সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা দেবে ইউএনডিপি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৪৫ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৬:১৬

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকসের বৈঠক – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, লজিস্টিকস ব্যয় কমানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পাশাপাশি বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় দক্ষতা উন্নয়নেও সহায়তা করতে চায় সংস্থাটি।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকসের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার পরিবেশগত ও সামাজিক মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আগে কোনো কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় কমানো এবং বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে পণ্য ওঠানো-নামানোর সময় ও ব্যয় কমানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এমএসএমই খাতকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী এ খাতে অর্থায়নের ঘাটতি চিহ্নিত করা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা কামনা করেন।

ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রফতানিমুখী করে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় টুলস ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহী ইউএনডিপি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্টিফেন রড্রিকস বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপির সহায়তা পুনর্বিন্যাস করা হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মাহবুবা খাতুন মিনু, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক, ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারি এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম উপস্থিত ছিলেন।