Friday 04 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঊর্ধ্বমুখী নিত্য পণ্যের বাজার, লাগামহীন মৌসুমী সবজির দাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:২৩ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:২৭

ঢাকা: বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারতেই পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজের চড়া দামের সঙ্গে লাগামহীন মৌসুমী সবজির বাজারও। আয়ের সাথে ব্যয়ের সঙ্গতি মেলাতে না পেরে হিমশিম খেয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ান বাজার, মহাখালী, রামপুরা ও মালিবাগসহ প্রধান কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যেরগুলোতে চড়া দামের থাবায় সাধারণ ক্রেতাদের বিপাকে পড়ার চিত্র দেখা গেছে।

কাঁচাবাজারে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। দু-একটি সাধারণ সবজি ছাড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি মিলছে না। বিক্রেতারা পাইকারি বাজারের দোহাই দিলেও ক্রেতাদের দাবি, উপযুক্ত বাজার তদারকি না থাকায় খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

সবজির পাশাপাশি চাল ও আটার বাজারেও স্বস্তি নেই। সুগন্ধি ও সরু চালের দাম লাগামহীন হওয়ায় স্বাভাবিক চাল কিনতেই বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এই আটা বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকায়। অর্থাৎ, কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। একই ভাবে ময়দার দামও বেড়েছে। খোলা ময়দা এখন প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চিশতি বলেন, কয়েকদিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে ডিলাররা। সামনে প্যাকেটজাত চিনির দামও বাড়তে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

ছবি: সারাবাংলা

এদিকে, প্রোটিনের উৎস হিসেবে পরিচিত চাষের তেলাপিয়া বা পাঙ্গাশ মাছ কিনতে হলেও এখন কেজিপ্রতি দিতে হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। মাঝারি বা রুই-কাতলার দাম ৩৫০ টাকার নিচে নামছে না। ফলে নিম্নবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, গরুর মাংসের কেজি ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা বিক্রি হওয়ায় তা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মাংসের সহজ বিকল্প ব্রয়লার মুরগিও বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়, আর সোনালি মুরগির দাম দাঁড়িয়েছে ৩২০ টাকা কেজিতে।

বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলেন, মাসের মাঝামাঝি এসেই কেনাকাটায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে। মাছ-মাংস কেনা তো দূরের কথা, সাধারণ তরকারি ও চাল-ডাল কিনতে গিয়েই বাজেট পার হয়ে যাচ্ছে। সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর ও নিয়মিত বাজার মনিটরিং বা অভিযান না থাকায় খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দর হাঁকাচ্ছেন। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, কারওয়ান বাজারসহ প্রধান পাইকারি আড়ৎগুলো থেকেই তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন খরচ ও ঘাটতি হিসাব করে কম দামে বিক্রির সুযোগ থাকছে না। আর দাম অতিরিক্ত হওয়ায় ক্রেতারা কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এতে পণ্য পচে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে এবং দিনশেষে খুচরা ব্যবসায়ীদের লভ্যাংশ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

রাজধানীতে একদিনে গ্রেফতার ৫৩৪
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৪

আরো

সম্পর্কিত খবর