Saturday 18 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পাঠ্যপুস্তকে ভুল থাকলে সংশোধন হবে: শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২২ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:০২ | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৫৪

ফাইল ছবি

ঢাকা: নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তকে যেখানে ভুল আছে সেগুলোর দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে তা সংশোধন করার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। পাঠ্যপুস্তক নির্ভুলকরণের এই প্রক্রিয়া অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

রোববার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীতে পাঠ্যাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত ঢাকা বিভাগের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পাঠ্যাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ে তার জানার ও চেনার পৃথিবীটাকে বাড়াতে পারে। এতে তাদের মনের জায়গাটি বড় হবে। আমাদের অনেক সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে কিন্তু তাদের চিন্তাক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এটুকু সহযোগিতা আমরা করতে পারি।’

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী ও পাঠ্যাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির টিম লিডার অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ।

আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘জ্ঞানার্জনের জন্য বই পড়তে বললে শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়ে যায়। তাদেরকে আনন্দের জন্য বই পড়ার বিষয়টি শেখাতে হবে। বই মানুষের মনের জানালা খুলে দেয়, যার ফলে সে চিন্তা করতে পারে। তাই বই পড়তে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র যখন শুরু করি তখন অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছে কিন্তু আমি দমে যাইনি। স্কুলে স্কুলে যেয়ে কথা বলেছি, প্রধান শিক্ষকদের বুঝিয়েছি। অনেকে রাজি হয়েছে, অনেকে হয়নি। এভাবে আমরা কোটি ছেলে-মেয়েকে বই পড়াতে পেরেছি। আমরা এককভাবে যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি, পরবর্তীতে সকারের সাহায্যে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘অনেকেই বলতে পারেন পাঠ্যাভ্যাসের জন্য আলাদা প্রকল্প কেন, এটি তো বেসিক। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন একটি প্রক্রিয়া চলমান যে আমরা শেখার চেয়েও ফলাফলে বেশি গুরুত্ব দেই। ফলে আমদের শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবন ও সৃষ্টিশীলতায় পিছিয়ে। তাই বই পড়ার জন্য আলাদা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ও স্মার্ট ইকোনমিতে টিকে থাকতে সৃজনশীল চিন্তার মানুষের বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিশুদের জ্ঞানার্জনে ও তথ্য মুখস্ত করতে উৎসাহ দেই বলেই আমরা চিন্তাশীল শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারছি না। যার ফলে আমাদের দেশে যোগ্য লোক না পেয়ে বিদেশ থেকে কর্মী আনতে হয়। ফলে প্রতি বছর দেশ থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার চলে যায়। চিন্তা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে পারলে আশা করা যায় দক্ষ জনগোষ্ঠী আমরাই তৈরি করতে পারব।’

রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার জেলা শিক্ষা অফিসার, কর্মসূচিভুক্ত ৫৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসাররা অংশ নেন। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সহযোগিতায় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর।

কর্মসূচির আওতায় ৫৩টি উপজেলার ২ হাজার ৩১৫টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির পড়া কার্যক্রম শুরু হবে। মন্ত্রণালয়ের আশা এর মাধ্যমে আনুমানিক ৩ লাখ ৯০ হাজার ২৫০ জন ছাত্রছাত্রী স্কিমের তালিকাভুক্ত বইগুলো পড়ে নিজেদের সমৃদ্ধ, মানবিক মূল্যবোধসম্প মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

স্কিমের পরিকল্পনা অনুসারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, দেশ ও কৃষ্টি, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিষয়ে কিশোর উপযোগী সুখপাঠ্য মননশীল বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নির্বাচিত ১৬-২০টি বই পড়ার ব্যবস্থা করা হবে। নির্বাচিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি পৃথিবীর অন্যান্য ভাষার সেরা সাহিত্যের বইয়ের বাংলা অনুবাদ, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক এবং সুনির্বাচিত ইংরেজি বই।

বই নির্বাচনের কাজ চলমান রয়েছে। স্কিম, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, প্রতিষ্ঠান প্রধান, এমসি সভাপতি এবং সদস্যগণের সহায়তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। স্কিমভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যদের অনলাইনে বইপড়া সুবিধা প্রদানের জন্য অনলাইন বইপড়া কর্মসূচি চালু করা হবে। স্কিমভুক্ত ১৫০০০ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটিতে একটি করে পাঠক ক্লাব তৈরি করা। এই ক্লাবের সদস্যরা বইপড়া কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবে।

জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি)-এর অন্তর্ভুক্ত স্ট্রেংদেনিং রিডিং হ্যাবিট অ্যান্ড রিডিং স্কিলস অ্যামাং সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস স্কিম-এর আওতায় পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি দেশের ৬৪ জেলার ৩০০ উপজেলায় ১৫ হাজার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর প্রায় ২৫ লক্ষ ছাত্রছাত্রী বই পড়ার সুবিধা পাবে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র উক্ত কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে।

বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সহযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারগণকে নিয়ে ৮টি ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কর্মশালায় ৩০০ উপজেলার প্রায় ৬০০ জন কর্মকর্তা অংশ নেবেন। এরইমধ্যে রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কর্মশালা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের স্ট্রেংদেনিং রিডিং হ্যান্টি অ্যান্ড রিডিং স্কিলস অ্যামাং সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস স্কিমের পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমানসহ অনেকে।

সারাবাংলা/আরএফ/একে
বিজ্ঞাপন

আরো