Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ, ভোক্তা অধিকারের হস্তক্ষেপ কামনা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুন ২০২৩ ১৫:৫৩ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৩ ১৮:২৩

ঢাকা: ভোর থেকে রাজধানী ঢাকার প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। কেউ আগে থেকেই টিকিট কেটে রেখেছেন। আবার কেউ কেউ স্ট্যান্ডিং টিকিটের আশায় এসেছেন। যাত্রার দিক টিকিট কাটতে আসা যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব যাত্রীদের কাছ থেকে কোথাও কোথাও বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে বাস । যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে বাড়তি টাকায়ই যাত্রা শুরু করছেন।

বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ এনেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতিও। সংগঠনটি গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় সড়ক ও নৌ-পথের বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। এই নৈরাজ্য বন্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বিআরটিএ, জেলা প্রশাসনের ভ্রামমাণ আদালতের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি তুলেছে তারা।

বিজ্ঞাপন

এবারও গত ঈদের মতো একদিন বাড়তি ছুটি দিয়েছে সরকার। সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা আর মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতেই মূলত এই সিদ্ধান্ত বলে জানান হয়েছিল সরকারের তরফ থেকে। সেই বাড়তি ছুটি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (২৭ জুন) থেকে। শেষ কর্মদিবস ২৬ জুন বিকেল থেকেই ঢাকা ছাড়ার ভিড় দেখা গেলেও ২৭ জুন সকাল থেকে তা ঢলে পরিণত হয়। গেল ঈদের মতো পদ্মা সেতুর কারণে এবারও সড়ক পথেই মানুষের যাতায়াতের ভিড় দেখা গেছে বেশি। রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বাস ছেড়ে যায়। সেখানে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে। যাত্রীর ভিড় থাকায় সায়েদাবাদসহ আশপাশের যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, শনির আখড়া, ফুলবাড়িয়া থেকে ভোররাতেই অনেক গাড়ি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ছেড়ে যায়।

তবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো গন্তব্যে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি বাসেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

যাত্রী মো. রফিকুল ইসলাম সারাবাংলাকে জানান, তিনি বাউফল জেলার মাধবপুর এলাকায় যাবেন। সেখানে ঢাকা থেকে ভাড়া জনপ্রতি ৮০০ টাকা হলেও এখন নিচ্ছে ১৩০০ টাকা করে।

তিনি বলেন, পরিবারের পাঁচজনকে নিয়ে আমি যাচ্ছি। আগে টিকিট বুকিং দিয়েছিলাম তখন ১০০০ টাকা করে বলা হলেও বাসস্ট্যান্ডে আসার পর বলে ১৩০০ টাকা করে না গেলে টাকা ফেরত নিতে পারেন। এখন আর কী করা- বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হলাম। সরকারি বাসই যদি বেশি ভাড়া নেয় তাহলে অন্যরা কী করছে, বুঝেন। এগুলো দেখার কেউ নেই।

সিডিএম, গ্রামীণ পরিবহনসহ অন্যান্য বাস কোম্পানিগুলোকে বরিশালের ভাড়া জনপ্রতি ৫০০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার টাক করে নিতে দেখা গেছে। সায়দাবাদ থেকে দেশের অন্যান্য গন্তব্যে চলাচল করা বাসগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলেও জানিয়েছেন যাত্রীরা। সায়েদাবাদে বিভিন্ন বাস কোম্পানির টিকিট বিক্রি করা সাইফুল জানান, ঈদের সময় কোম্পানি রেট করেছে এটা।

বাড়তি ভাড়ার এই অভিযোগ মহাখালী ও গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকেও পাওয়া গেছে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বাস ছেড়ে যায় উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে। সেখানেও ভোর থেকে ভিড় লেগেছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের চাপ কিছুটা কমতে দেখা গেছে। এদিকে গাবতলীর একটা বড় অংশের বাস বরিশাল, খুলনা, যশোর চলাচল করলেও সেখানে যাত্রী সংখ্যা কমেছে। বাস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে এই রুটের যাত্রী কমে গেছে।

ঈদযাত্রায় বিভিন্ন রুটে ভাড়া নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (২৭ জুন) গণমাধ্যমকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবারের ঈদে যানজট ও জনজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসনীয় তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও ঈদযাত্রায় বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের পথে বিভিন্ন রুটে গতকাল থেকে যাত্রারা ভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল। আজ সকাল থেকে আরও বাড়তি আদায় করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম থেকে ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীসহ উত্তরবঙ্গের পথে যাত্রী প্রতি দিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও ঢাকা থেকে ফেনীর যাত্রীদের চট্টগ্রামের ভাড়া, ঢাকা থেকে সাতকানিয়া বা আমিরাবাদের যাত্রীদের কক্সবাজারের ভাড়া গুণতে হচ্ছে। ঠিক তেমনি ঢাকা থেকে বগুড়ার যাত্রীদের যশোরের ভাড়া বা সাতক্ষীরার ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এভাবে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের বেশি দূরত্বের ভাড়া গুণতে হচ্ছে।

বিবৃতিতে বল হয়, নৌ-পথেও এমন কূটকৌশলের ফাঁদে ফেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এমন জুলুম চললেও ভাড়া নৈরাজ্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

ঈদযাত্রায় যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, জেলা প্রশাসনের ভ্রামমাণ আদালতের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে।

সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডিজিটাল বাংলাদেশে এখনো টিকিট অব্যবস্থাপনা, টিকিট কালোবাজারি, অপরিকল্পিত যানবাহন ব্যবস্থাপনাসহ নানা ক্ষেত্রে ঈদ ব্যবস্থাপনায় গলদ থাকায় যাত্রীরা পদে পদে হয়রানীর শিকার হচ্ছে। এসব ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিরোধে বিআরটিএ ও বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে প্রতিবছর ঈদে গতানুগতিক পদ্ধতিতে ভিজিল্যান্স টিম বা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হলেও প্রকৃতপক্ষে কোথাও তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সারাবাংলা/জেআর/আইই