Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২২ জুলাই ২০২৬ ২২:২২

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের কারণে নির্ধারিত নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

বুধবার (২২ জুলাই) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, আইন সংশোধন হলেও নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে, আর না হলেও বিদ্যমান আইনেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব।

আইন পরিবর্তনের কারণে ভোট গ্রহণে বিলম্ব হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আরোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আইন সংশোধনের সঙ্গে নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। আইন যদি সংশোধন হয়, তবে সেটি কবে থেকে কার্যকর হবে তা সংশোধনীতেই উল্লেখ থাকবে। আর যদি সংশোধন না-ও হয়, তবে দেশে তো বিদ্যমান আইন রয়েছেই। বর্তমান আইনটিও দুর্বল নয়, এবং এটি দিয়েই সুন্দরভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। বিগত জাতীয় নির্বাচনে মামলা ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কিছু অস্পষ্টতা ছিল, তাই নির্বাচন কমিশন কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠাচ্ছে। তবে এই সংশোধনী প্রক্রিয়ার জন্য ভোটগ্রহণ আটকে থাকবে না।’

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, ‘ইসি নির্বাচন পরিচালনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সার্বিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে এবং অক্টোবর নাগাদ ভোট গ্রহণ শুরু করা যাবে। বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মতোই কম সময়ে বেশি নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে এবারও একাধিক ধাপে ভোট গ্রহণ করা হবে। যেসব স্থানে জনপ্রতিনিধি নেই অথবা আইনগতভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।’

বর্তমান আইন অনুযায়ী পদে বহাল থেকে প্রশাসকরা নির্বাচন করতে পারবেন কি না? এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসি আনোয়ারুল জানান, সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে পদে থেকে নির্বাচন করার বিষয়টি স্পষ্টত নিষিদ্ধ থাকলেও সিটি করপোরেশনের মেয়রদের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা রয়েছে। একজন মেয়র মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করা সত্ত্বেও নিয়মে এই ভিন্নতা একটি বড় অসঙ্গতি। এই বৈষম্য ও অসঙ্গতি দূর করতেই ইসি আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠাচ্ছে, যেন যে আইনেই ভোট হোক না কেন, পদ ছেড়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি সবার জন্য পরিষ্কার ও সমান হয়।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা শতভাগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার আইনসমূহে সশস্ত্র বাহিনীকে সংজ্ঞায়িত করার সুপারিশ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক হাইকোর্টের রুলের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে ইসি এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিদ্যমান আইন, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রেক্ষাপট এবং উচ্চ আদালতের প্রাসঙ্গিক রুলিং পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর