ঢাকা: বিগত সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাব ও ভুল নীতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আজ গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণ এবং খাতটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে দেশজুড়ে প্রায় ২৮ থেকে ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত থেকেছে। গত ১৫ বছরে দেশে নতুন কোনো গ্যাসকূপ খনন না করে পুরো খাতটিকে আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছে।’
পরিকল্পনাহীনতার একটি বড় উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন,“ভোলায় সঞ্চালন পাইপলাইন না থাকার পরও একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যা এখন কোনো কাজে না এসে রাষ্ট্রের বকেয়া অর্থের অপচয় ঘটাচ্ছে এবং মূলত ‘জাদুঘরে’ পরিণত হয়েছে।”
খাতের চলমান দুর্দশার চিত্রে বকেয়া বিলের বিষয়টি তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকায়। ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’-এর আইনি বাধ্যবাধকতার ফলে সৃষ্ট এই বিশাল বকেয়া মেটাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সমন্বয় কমিটি কাজ করছে। বর্তমানে একটি এলএনজি ভাসমান টার্মিনাল অকার্যকর থাকায় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের চাপ কমে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে ময়মনসিংহ অঞ্চলে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি ও তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে সরকারের একাধিক বড় ও নতুন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণে সরকার নতুন বিনিয়োগবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ নীতি গ্রহণ করেছে, যার আওতায় কর ছাড়, শুল্ক হ্রাস এবং রেলওয়ে ও সওজের অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। চলতি সরকারের মেয়াদেই জাতীয় গ্রিডে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।
সিস্টেম লস কমানো ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের এই খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এছাড়া সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় মোবাইল অ্যাপ বা কিউআর কোডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।