Thursday 23 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টানা বৃষ্টিতে বগুড়ায় মরিচের ব্যাপক ক্ষতি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৮ অক্টোবর ২০২৩ ১১:০৩

বগুড়া: বগুড়ায় প্রবল বৃষ্টিপাতে নন্দীগ্রামসহ কয়েকটি উপজেলায় মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে মরিচ চাষিদের মাথায় হাত! বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নন্দীগ্রামে। গত কয়দিনের প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নাগর নদীর পানি বেড়ে গুলিয়া কৃষ্ণপুর স্কুলসংলগ্ন বাঁধ ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, ডুবে মারা গেছে প্রায় ৭০০ মুরগি।

জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলায় প্রবল বৃষ্টিপাতে ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নাগর নদীর পানি ব্যাপক বেড়েছে। এতে কৃষকদের দিন কাটছে চরম হতাশায়।

উপজেলার হাজারো কৃষক, হাজার হাজার টাকা খরচ করে আমন ধানের পাশাপাশি মরিচের চাষও করেছিলেন। মরিচগাছ রক্ষায় স্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিলেও একটু পরেই আবার পানিতে ডুবে যায় ক্ষেত।

বিজ্ঞাপন

মরিচ চাষিরা জানান, কয়েক দিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় বেশির ভাগ মরিচ ক্ষেতে পানি জমে যায়। সেইসব মরিচের জমিতে স্যালোমেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাষণ করা হয়। তারপরেও বৃষ্টির পানি ও আশপাশের জমির পানি চুইয়ে আসে। এতে অনেক ক্ষেতের মরিচগাছ মরে যায়। কিছু জমির মরিচগাছ বেঁচে থাকলেও সেগুলোতে মরিচ নেই বললেই চলে। আবার কিছু ক্ষেতের মরিচগাছ বেঁচে গেলেও সেগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এ উপজেলায় কাঁচা মরিচের ফলনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ভাটগ্রামের মরিচ চাষী আক্কাস আলী বলেন, ‘হাটে মরিচের দাম বেশি কিন্তু বৃষ্টিতে মরিচগাছের সর্বনাশ হয়ে গেছে। জমিতে মরিচগাছ থাকলেও তাতে মরিচ নেই।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, ‘এবার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ৩১০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। বৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেতে পানি জমে যায়। তবে সঙ্গে সঙ্গে মরিচ চাষিরা স্যালোমেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাষণ মরিচগাছ পুরোপুরি নষ্ট হয়নি।’

এদিকে উপজেলার কল্যাণনগর গ্রামে নন্দীগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েলের মুরগির খামারে পানি ঢুকে সোনালি জাতের ৫০০ ও ব্রয়লার জাতের ২০০ মুরগি মারা গেছে। অন্য মুরগিগুলো বেঁচে থাকলেও অবস্থা ভালো নয়। তার পুকুর ডুবেও প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

এছাড়া উপজেলা ও পৌরসভায় বৃষ্টির পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বাসা-বাড়ির সামনে হাঁটু পানি। কিছু কিছু বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। আর এই প্রবল বৃষ্টিপাতে ভেঙে গেছে কাঁচা ঘরবাড়ি। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সারাবাংলা/এমও