Sunday 02 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি ৭৫৭ এসআই ও সার্জেন্ট প্রার্থীর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ আগস্ট ২০২৪ ১৩:৩৭ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৪৪

ঢাকা: চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ২০০৭ সালে নিয়োগ বাতিল হওয়া ৭৫৭ জন পুলিশের এসআই ও সার্জেন্ট প্রার্থী। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর আহমেদ চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসআই ও সার্জেন্ট এর পক্ষে এস এম সুজন চৌধুরী ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০০৭ সালে তৎকালীন আইজিপি নুর মোহাম্মদ ও বেনজীর আহমেদ গং তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য শুধু ‘দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ’ অজুহাতে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ তারিখে ৫৩৬ জন এসআই এবং ২২১ জন সার্জেন্ট সহ মোট ৭৫৭ জনের চূড়ান্ত নিয়োগ বাতিল করেন।

তারা জানান, ১৭ নভেম্বর ২০০৫ তারিখে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের এস আই পদে নিয়োগের জন্য ২০০৫ সালের ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশের সকল রেঞ্জ ডিআইজিদের তত্ত্বাবধানে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২০০৬ সালের ১৭, ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ২০০৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ২০০৬ সালের ২২ থেকে ৩০ অক্টোবর ও পুলিশ ভেরিফিকেশন একই বছরের ২২ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিলে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্ট পদে নিয়োগের জন্য ২০০৫ সালেএ ২ জুলাই রাজারবাগ পুলিশ লাইনে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ওই বছরের ২৭,২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় একই বছরের ২ আগস্ট। মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয় ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর।

তারা বলেন, নির্বাচিত সব প্রার্থীরা কর্মরত বিভিন্ন চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাজশাহীর সারদা পুলিশ ট্রেনিং একাডেমিতে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু বিনা কারণে হঠাৎ করে আমাদের চাকরিতে যোগদান বাতিল করে দেন তৎকালীন পুলিশ প্রধান। চাকরিতে যোগদান করতে না পেরে পরবর্তীতে আমরা উচ্চ আদালতে রিট করেছিলাম। উচ্চ আদালতেও আমরা নিয়োগবঞ্চিত ৭৫৭ জন চাকরিপ্রার্থী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হই। চাকরি হারিয়ে আমাদের অনেকে বিকল্প কর্মসংস্থানে ঢুকলেও বেশিরভাগই মানবেতর জীবন যাপন করছে।

এ অবস্থায় দীর্ঘ ১৮ বছর পর ড. মুহাম্মদ ইউনুস বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিয়োগবঞ্চিত চাকরি প্রার্থীরা ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি এবং মৌলিক ও মানবিক দিক বিবেচনা করে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।

সারাবাংলা/আরএফ/এনইউ