Sunday 02 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বস্তুনিষ্ঠতা ও জনকল্যাণের ভারসাম্য সাংবাদিকতার বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
২ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৫৫ | আপডেট: ২ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৪৯

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

ঢাবি: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সত্য উদ্ঘাটন এবং বস্তুনিষ্ঠতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তেমনি জনকল্যাণের দিকে ধাবিত করার দায়িত্বও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগ দিবস উপলক্ষ্যে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও সাংবাদিকতার আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব , বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রকে ব্যবহার করতেই হচ্ছে। ইচ্ছা-নিরপেক্ষভাবেই একজন ভালো শাসক অথবা একজন খারাপ শাসকের হাতে রাষ্ট্র এবং শাসনক্ষমতার দণ্ড চলে আসে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি এটাকে কি জনসেবার কাজে লাগাবেন, নাকি জনসেবা ছাড়া শুধু ক্ষমতা ভোগ করার জন্য ব্যবহার করবেন? সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে একটি নিপীড়নের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন? ইতিহাসে এমন অনেক জনপ্রিয় শাসককে আমরা দেখেছি, যাঁদের ক্ষমতায় যাওয়ার আগে জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠেছিল; কিন্তু খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই সেই জনপ্রিয়তা গড়াতে গড়াতে আবার সাগরের অতলে তলিয়ে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সভ্যতার ইতিহাসে গণমাধ্যম এই দায়িত্বটি নিয়েছে এবং এটি একটি অনিবার্য অনুসঙ্গে পরিণত হয়েছে। কাগজে-কলমে এটি রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ না হলেও এটি একটি স্তম্ভ হয়ে গেছে—চতুর্থ স্তম্ভ। আমাদের মানতেই হবে, বুঝতে হবে যেখানে সাংবাদিকতা নেই, সেখানে আদৌ একটি রাষ্ট্র আছে কি না, সেই প্রশ্ন দেখা দেয়। পৃথিবীর বহু বড় বড় বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানী এ কথা বলেছেন যে, রাষ্ট্রবিহীন সাংবাদিকতা আর সাংবাদিকতাবিহীন রাষ্ট্র এই দুটির মধ্যে যদি কাউকে বেছে নিতে হয়, তাহলে যে কোনো সভ্য মানুষ রাষ্ট্রবিহীন সাংবাদিকতাকেই বেছে নেবে।’

সাংবাদিকতার দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তথ্যের সংগ্রহ, তথ্যের ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যের উপস্থাপনা সবকিছুই একটি কল্যাণমুখী উদ্দেশ্যে করা হয়। তবে শুধুমাত্র তথ্য অনুসন্ধান পর্যন্ত বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়; তথ্য সংগ্রহের পর সেটিকে জনকল্যাণের দিকে ধাবিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা এবং সত্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়া কী হবে, সেটি নিয়ে প্রত্যেকের নিজের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত থাকা প্রয়োজন।’

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যম কমিশন গঠন করার কাজে অংশীজনদের সঙ্গে আমাদের কথাবার্তার পর্ব শেষ করেছি। সবাই মিলে আমরা একমত হয়েছি যে, এ পর্যন্ত গণমাধ্যম সংস্কার বা এ-সংশ্লিষ্ট যত ধরনের প্রতিবেদন আমাদের হাতে আছে, ভবিষ্যতে কাজ করার ক্ষেত্রে সেই সব প্রতিবেদন ও তাদের সুপারিশগুলো আমরা বিবেচনায় নেব।’

সেমিনারের মূখ্য আলোচক দৈনিক নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘আপনারা যে তথাকথিত বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কথা বলেন, এটাকে আমি বলি নির্লিপ্ততার সাংবাদিকতা। অর্থাৎ সমাজের মানুষের কী অবস্থা, অধিকাংশ মানুষের সেই ব্যাপারে তারা নির্লিপ্ত। তথ্য দিয়েই যেন তারা মুক্তি লাভ করেন, দায়িত্ব খালাস মনে করেন। আর বাকিটা যেটা সেই তথ্যকে জনস্বার্থের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যাখ্যা করে মানুষের চিন্তাকে প্রভাবিত করতে চান, প্রভাবিত করাকে কর্তব্যপরায়ণ একটা কাজ মনে করেন সেটা হচ্ছে লিপ্ততার সাংবাদিকতা।
আমি আপনাদের তরুণদেরকে বলব, আপনারা লিপ্ততার সাংবাদিকতার মধ্যে থাকেন। লিপ্ততার সাংবাদিকতা মানে একটা ভীষণভাবে রাজনীতি সচেতন সাংবাদিকতা।

তিনি বলেন, ‘কথাটা শুনতে খুব ভালো লাগে ওই পত্রিকাটি অথবা ওই সংবাদমাধ্যমটা খুব নিরপেক্ষ। একটা সমাজে যদি বিভিন্ন শ্রেণি থাকে, সমাজ যদি শ্রেণিবিভক্ত হয়, সেই সমাজের মধ্যে যদি অন্যায় থাকে, জনস্বার্থবিরোধী অর্থনীতি চালু থাকে, জনস্বার্থবিরোধী আইনকানুন যদি থাকে, তাহলে এই রকম একটা সময়ের মধ্যে সাংবাদিকতা বা যেকোনো বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা কী করে নিরপেক্ষ হতে পারে?’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকতার একটা কাজ তো অবশ্যই পরিষ্কারভাবে তথ্য প্রদান করা। কিন্তু কেবলমাত্র তথ্য প্রদান করাই—তথ্য মানেই আমি ধরে নিচ্ছি যে, তথ্য বা অপতথ্য বললে কিছু নাই। যা কিছু তথ্য, তার বাইরে সবকিছুই অপ।তাহলে তথ্যের যে বস্তুনিষ্ঠতা, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাংবাদিকতার সেটা একটা প্রথম পর্ব। আপনার রিডারকে, আপনার ভিউয়ারকে, দর্শককে আপনি নিশ্চয়ই তথ্য দেবেন।’

সর্বশেষ তিনি তথ্যমন্ত্রী বরাবর ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণাকরণ ও নিবন্ধীকরণ) আইন, বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বাক্‌ ও বাক্যের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখবার জন্য, দয়া করে আপনারা আইনটা স্ক্র্যাপ করবেন।

সারাবাংলা/কেকে/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর