ঢাকা: তাসাউফভিত্তিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দেওয়ানবাগ শরীফসহ দেশের বিভিন্ন দরবার ও মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষিদের শাস্তি দাবি করেছেন দেওয়ানবাগ দরবার শরীফের নেতৃত্ব দানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুর।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে তার পক্ষে এই আহ্বান জানান সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আবদুল আজিজ খলিফা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দেওয়ানবাগ শরীফ কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত নয়। মানুষের প্রতি দয়া, প্রেম, ভালোবাসা প্রদর্শন এবং নিজেদের চরিত্র গঠনের মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসুল (সা.) এর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই এই প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তারপরও কেন, কার স্বার্থে বার বার মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেওয়ানবাগ শরীফে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হচ্ছে? প্রশ্ন রাখেন আবদুল আজিজ খলিফা।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়ানবাগ শরীফের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুস সালাম, ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দেওয়ান ফারুকুল ইসলাম, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম, আল কোরআন গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য হযরতুল আল্লাম এমরান হোসাইন মাজহারী ও ইসলামী আলোচক হযরতুল আল্লাম সাব্বির আহমদ ওসমানীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পিইউবি’র সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাছিরউদ্দীন সোহেল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সুফি সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগীর (রহ.) প্রতিষ্ঠিত নারায়ণঞ্জ জেলার বন্দর থানার দেওয়ানবাগ গ্রামে অবস্থিত বাবে জান্নাত দেওয়ানবাগ শরীফে এবং ৮ সেপ্টেম্বর রোববার ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলাধীন বাবে বরকত দেওয়ানবাগ শরীফে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংশ্লিষ্ট দরবার দুটিতে অবস্থানরত নিরীহ ভক্তদের উপর দুর্বৃত্তরা শারীরিক নির্যাতন চালায়। এরফলে শতাধিক ভক্ত মারাত্মক আহত হন এবং একজন মারা যান। এরা ইতিপূর্বে ১৯৯০ সাল ও ১৯৯৯ সালেও দেওয়ানবাগ দরবার শরীফে হামলা চালিয়েছিল।
তরিকতপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আজকের এই সংকট দেওয়ানবাগ শরীফের একার নয়। এই সংকট বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় সুফিবাদী জনগোষ্ঠীর। সব মতানৈক্য ভুলে আসুন আমরা একত্রিতভাবে শান্তি বিনষ্টকারী এই জালিমদের প্রতিহত করি। অলি-আল্লাহর এই পুণ্যভূমিতে শান্তি-সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করি।