Saturday 08 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ডিসি ‘নিয়োগে’ ৩ কোটির চেক নিয়ে প্রশাসনে তুলকালাম

ঝর্ণা রায়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৪৭

ঢাকা: জেলা প্রশাসক নিয়োগে তিন কোটি টাকার চেক উদ্ধার হওয়া নিয়ে প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। দিনভর সচিবালয়ে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল এক যুগ্ম সচিবের রুম থেকে উদ্ধার হওয়া পদ্মা ব্যাংকের চেক নিয়ে। এ ব্যাপারে অনেক কর্মকর্তা আবার ভয়েও ছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে, বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে যাদের জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়নের কথা বলা হচ্ছে তাদের একজন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল। তিনি কথা বলেছেন সারাবাংলার সঙ্গে। এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, যে যুগ্ম সচিবের রুম থেকে চেকটি পাওয়া গেছে তাকে তিনি চেনেন না। এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র বলেও দাবি তার।

বিজ্ঞাপন

গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর দুই দিনে দুই দফায় মোট ৫৯ জন জেলাপ্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই নিয়োগের পর পরই সবাই কাজে যোগ দিতে প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তবে বিপত্তি বাধে যারা ডিসি পদায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাদের দাবি মুখে। তারা এই নিয়োগ বাতিলের দাবি তুলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হৈ চৈ শুরু করেন। উপ-সচিব পর্যায়ের ওই সকল কর্মকর্তা এক পর্যায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ শাখার যুগ্ম সচিব কে এম আলী আযমের কক্ষে ঢুকে এসব করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন নিয়োগ দেওয়া আট জেলার জেলা প্রশাসকদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। এ ছাড়া চার জেলার জেলা প্রশাসক পরিবর্তন করা হয়। বাকি নিয়োগ প্রাপ্তদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করতে গঠন করা হয় কমিটি। সেইসঙ্গে যুগ্ম সচিব কে এম আলী আযমকেও সরিয়ে নেওয়া হয়।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ শাখার যুগ্ম সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদের রুম থেকে তিন কোটি টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয় বলে দেশের শীর্ষ এক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পর পরই শুরু হয় হৈ-চৈ। পদায়ন হওয়া এক জেলা প্রশাসকের পক্ষে ওই যুগ্মসচিবকে চেকটি দেন মীর্জা সবেদ আলী নামের এক ব্যবসায়ী। চেকের সঙ্গে পাওয়া যায় চেক দাতার এনআইডির ফটোকপিসহ ডিসি নিয়োগসংশ্লিষ্ট কিছু কাগজপত্র। সেখানে একটি কাগজে পাঁচ জেলার ডিসির নাম রয়েছে। সেই কাগজের তালিকা থেকে দুই জন রংপুর ও নওগাঁর জেলা প্রশাসক হয়েছেন।

আরেকটি কাগজে ডিসি নিয়োগের ভাইভা দেওয়া প্রার্থীদের সংখ্যা ছিল। বলা হচ্ছে, ওই কাগজের হাতের লেখা আরেক যুগ্ম সচিব আলী আযমের। ডিসির ফিটলিস্ট তৈরি করতে মোট ৫৮২ প্রার্থীকে এসএসবির কাছে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। এর মধ্যে ৪৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত হোন। বাকি ৫২ জন ভাইভা দিতে যাননি।

এদিকে, বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর চেক দাতা ব্যবসায়ী মীর্জা সবেদ আলীকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এ নিয়ে কথা হয় উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের সঙ্গে। সারাবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না।’ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ওয়েসাইটে সকল স্যারের নাম-ছবি আছে। এই অভিযোগ ওঠার পর আমি ওয়েবসাইটে তাকে দেখেছি। তার আগে তাকে দেখিনি এবং চিনতামও না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা অবশ্যই ষড়যন্ত্র। এখন মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে প্রচুর সেনসেটিভ কাজ করতে হয়। আপনারা জানেন, আমরা কোন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পেয়েছি। আমাদের এই আসাটা অনেকে সহ্য করতে পারছেন না। এখন আমরা যেন ফেইল করি, তাই মানসিক চাপে রাখার জন্য এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এটি ক’দিন ধরে হচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটা তারই একটি পার্ট বলে মনে করি।’

শোনা যাচ্ছে, ২৩ ডিসি প্রত্যাহার হচ্ছে, আপনি কোনো তথ্য পেয়েছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে নওগাঁর ডিসি আউয়াল বলেন, ‘আমি এখনো এ ধরনের কোনো তথ্য বা নোটিশ পাইনি। হতে পারে এর জন্যই ষড়যন্ত্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জিয়া স্যারকে চিনি না। তার সঙ্গে আগে কখনও কথাও হয়নি।’

বিষয়টি জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। সচিবালয়ে তার কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, উনি মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অফিসে আসেননি। এর পর যুগ্মসচিব কে এম আলী আযমের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকেও পাওয়া যায়নি। তিনিও এদিন অফিস করেননি বলে জানা গেছে।

এদিকে, আরও ২৩ জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার হচ্ছে বলে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে দুয়েকদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সারাবাংলা/জেআর/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো