Friday 07 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘বেতন পাই ৯ হাজার টাকা, ইলিশ কেনার মুরোদ নেই’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৪ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:৪৯

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে কর্ণফুলীর তীরে ফিশারিঘাট। ভোরের আলো ফোঁটার আগেই সেখানে শুরু হয় মাছ বিক্রেতাদের হাঁকডাক। নৌকায় আসা হরেক রকমের মাছের পেটি নামানো, পাইকারি আড়তে ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম-বাদানুবাদ, অন্যান্য বাজারে বিক্রির জন্য নেয়া, এর ফাঁকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাওয়া সাধারণ ক্রেতারাও থাকেন খুচরা বাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে মাছ কেনার আশায়।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ফিশারিঘাটে গিয়েছিলেন বেসরকারি ব্যাংকের বুথে প্রহরী হিসেবে কাজ করা মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন। লইট্যা, ফাইস্যা, ছোটপোয়া মাছের দাম দেখে দেখে গিয়ে থামেন ইলিশের টুকরির সামনে। কিছুক্ষণ বেচাবিক্রি দেখে আবার গিয়ে থামেন লইট্যার সামনে।

বিজ্ঞাপন

কথা হয় প্রায় ৪০ বছর বয়সী সাজ্জাত হোসেনের সঙ্গে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘ফিশারিঘাটে পাইকারি দামে বিক্রি হয়। এখানে ইলিশ মাছের কেজি বলছে ১৪০০ টাকা, বড়গুলো ১৮০০। বেতন পাই ৯ হাজার টাকা, এত দাম দিয়ে ইলিশ কেনার মুরোদ নেই। তারপরও একটু শখ হয়েছে, দেখলাম আর কী ! ছোটবেলায় ইলিশ অনেক খেয়েছি, তখন দাম সাধ্যের মধ্যে ছিল।’

নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে পাইকারি কাঁচাবাজারে বৃহস্পতিবার ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়। জাটকা বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকায়। আবার অলিগলিতে ভ্যানগাড়িতে করে ইলিশের জাটকা বিক্রি করতে দেখা গেছে ৯০০-১০০০ টাকায়। অভিজাতদের কাঁচাবাজার হিসেবে পরিচিত কাজির দেউড়িতে ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকায় ইলিশ বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে এসব বাজারে অন্যান্য মাছের দর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল দেখা গেছে, বরং লইট্যা, চিংড়িসহ কিছু মাছের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে কমেছে। রুই ২৭০ টাকা, কাতলা মাছ ৩২০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, লইট্যা ১৫০ টাকা, পাবদা ৩৮০ টাকা। শিং মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পুকুরের টেংরা ৭৫০ ও সামুদ্রিক টেংরা ৪৫০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বোয়াল ৫৫০ টাকা, রূপচাঁদা ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

মাছের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও সবজিতে স্বস্ত্বি মিলছে না। প্রায় প্রতিটি সবজির দাম গত সপ্তাহের চেয়ে অন্তঃত ১০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। বাজারে টমেটো কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, কাকরোল ১০০ টাকা, বেগুন ১৪০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, বাঁধাকপি ১০০ টাকা, ফুলকপি ১২০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা, ধনেপাতা ৪০০ টাকা, দেশি গাজর ১০০ টাকা, চায়না গাজর ১৬০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ১৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা এবং আলু প্রকারভেদে ৫৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদের দাবি, সপ্তাহজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে। যেসব এলাকা থেকে আড়তে সবজি আসে, সেখান থেকে বৃষ্টির কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে বাজারে সবজির সংকট তৈরি হয়ে দাম বেড়েছে।

রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে সবজি কিনেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি নাজমা আক্তার। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘ভেন্ডি নিলাম ৭০ টাকায়, করলা ১০০টাকা – কীভাবে খাবো, কীভাবে বাঁচবো। কোনো জিনিসের দাম কম নেই। টমেটো নিয়েছি ১৮০ টাকা। দেশটাকে তামা বানিয়ে একজন চলে গেছে। নতুন সরকার আর কী করবে ! একটা ঘর পুড়লে তো সেটাকে আবার নতুন করে বানাতে অনেক সময় লাগে। ভোগান্তি সব আমাদের।’

মুরগির ডিমের দামও কোনোভাবেই নাগালে আসছে না। রিয়াজউদ্দিন বাজারে মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর খুচরা দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকা। এছাড়া হাঁসের ডিম ডজনপ্রতি ২০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৯০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৬০ টাকা, গরুর মাংস হাড়ছাড়া ৯০০ টাকা এবং হাড়সহ ৭০০ টাকা, খাসির মাংস ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল আছে।

এদিকে বাজারে পেঁয়াজ ১১০ টাকা, রসুন ২০০ টাকা, ছোট দানার মসুরের ডাল ১৩০ টাকা, বড় দানার মসুর ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ১৬০ টাকা, খেসারি ডাল ১১০ টাকা, বুটের ডাল ১৭৫ টাকা, ছোলা ১৩৫ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১৩৫ টাকা, খোলা চিনি ১৩০ টাকা, এক কেজির প্যাকেট ময়দা ৬৫ টাকা, আটার প্যাকেট ৫০ টাকা, পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের মধ্যে ফ্রেশ ৮১০ টাকা, রূপচাঁদা ৮২০ টাকা, তীর ৮১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া মানভেদে চাল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা এবং চিনিগুঁড়া প্রতিকেজি ১৪০ টাকা ও বাসমতি চাল ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এসব পণ্যের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে তেমন কোনো হেরফের হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

ছবি : শ্যামল নন্দী, স্টাফ ফটোকরেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম। 

সারাবাংলা/আরডি/ইআ