কিশোরগঞ্জ: টাকা ছিনিয়ে নিতে কসাই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাবাকে গলা কেটে হত্যা করেছে ছেলে। এসময় ধান ক্ষেতে বাবার মাথা চেপে ধরে ছেলে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছেলে সোহেল মিয়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী তার সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এরআগে ১৯ অক্টোবর রাতে জেলার বাজিতপুর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নিবু মিয়া (৬৫) বাজিতপুর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার মৃত সুন্দর আলী মুন্সির ছেলে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহত নিবু মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (২৪), তার বন্ধু বাবুল মিয়া (৩২), সুমন মিয়া (২৬) ও কসাই নজরুল ইসলাম (৪৫)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২০ অক্টোবর সকালে ধান ক্ষেত থেকে নিবু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে আব্দুর রহমান হৃদয় (২৮) বাদি হয়ে বাজিতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশের একটি দল প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মো.বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। আটক বাবুলের দেওয়া তথ্যে নিহতের ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, এক বছর আগে নিবু মিয়া ২১ লাখ টাকার জমি বিক্রি করেন। ৬ লাখ টাকা দিয়ে ছেলে সোহেলকে বিদেশ পাঠান। কিছুদিন পর সোহেল দেশে এসে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। এদিকে, বাবার কাছে জমি বিক্রির কিছু টাকা ছিলো। ওই টাকা নিতে বাবাকে চাপ দেন। নিবু মিয়া টাকা নিজের সঙ্গে রাখতেন। ঘটনার দিন টাকা ছিনিয়ে নিতে কসাইসহ তিন বন্ধুকে নিয়ে বাবাকে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার সময় ছেলে বাবার মাথা চেপে ধরেন। হত্যার পর বাবার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা ভাগাভাগি করে নেন তারা চারজন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আটক বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন-এসপি।
মামলার এজাহারে জানা যায়, গত ১৯ (অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিহত নেবু মিয়া ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের লোকজন তাকে আত্নীয় স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করেও তাকে পায়নি। অনেক খোঁজাখুজির পর বাড়ির পাশের ধান ক্ষেতে হাত-পা বাধা গলাকাটা অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়।