Sunday 09 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ছিল খাল, এখন নালা! / দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে গড়াই

আল-আমিন খান রাব্বি
৯ আগস্ট ২০২৬ ০৮:২২

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে কুষ্টিয়ার গড়াই খাল। ছবি: সারাবাংলা

কুষ্টিয়া: ছিল খাল, এখন বলতে গেলে নালা। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। এতে ব্যাহত হচ্ছে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। বলতে গেলে কুষ্টিয়া শহরের পানি নিষ্কাশন ও আশপাশের কৃষিজমির জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা গড়াই খালটি এখন দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

১৯৪৯ সালে স্থানীয় জলপথ সম্প্রসারণ ও মিরপুর উপজেলার আংশিক কৃষিজমির জলাবদ্ধতা দূরকরণের জন্য খালটি খনন করা হয়। খালটি ‘জিকে’ (পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুষ্টিয়া)-এর তত্ত্বাবধানে থাকলেও পরে ২০১৮ সালে কুষ্টিয়া পৌর কর্তৃপক্ষ অনাপত্তিপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। পরে খালটি পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ২০১৮ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয় কুষ্টিয়া পৌরসভা। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় খাল খননের পাশাপাশি দুই পাড়ে হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং খালের পানিতে মাছ ও হাঁস চাষের পরিকল্পনা ছিল। তবে নানা জটিলতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ পরিকল্পনার ঘাটতি, ঠিকাদারের গাফিলতি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার নানা সমস্যার কারণে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে কুষ্টিয়ার গড়াই খাল। ছবি: সারাবাংলা

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে কুষ্টিয়ার গড়াই খাল। ছবি: সারাবাংলা

গড়াই খালটি কুষ্টিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কমলাপুর, মঙ্গলবাড়িয়া বাজার হয়ে উদিবাড়ি, বাড়াদি, চৌড়হাসের মন্দিরপাড়া, চেচুয়া, ফুলবাড়িয়া, জগতি ও বাইপাস হয়ে মিনাপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার। সরেজমিনে খালের বিভিন্ন অংশে দেখা যায়, দুই পাড়ে জমে আছে পলিথিন, প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য। কোথাও কোথাও খালের পানি কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আবর্জনা জমে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘খালে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেক এলাকায় পানি জমে থাকে।’ বসু দেব নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সারাবংলাকে বলেন, ‘খালের জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয়। এতে আশপাশের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে।’

কুষ্টিয়ার পরিবেশবিদ কবিরুল ইসলাম সারাংলাকে বলেন, ‘গড়াই খাল দখল ও দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নিয়মিত খনন করতে হবে। তা না হলে শহরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা আরও সংকটে পড়বে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব বাড়বে।’

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে কুষ্টিয়ার গড়াই খাল। ছবি: সারাবাংলা

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে কুষ্টিয়ার গড়াই খাল। ছবি: সারাবাংলা

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের জন্য খালটি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে খালটির তদারকির দায়িত্ব কুষ্টিয়া পৌরসভার ওপর ন্যস্ত রয়েছে এবং পৌর কর্তৃপক্ষই এর দেখভাল করছে। খালটির বিষয়ে পৌরসভার কোনো কারিগরি পরামর্শের প্রয়োজন হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য বিষয়েও পৌরসভাকে সহযোগিতা করা হবে।’

কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদি হাসান সাবাংলাকে বলেন, ‘গড়াই খাল নিয়ে কী করা যায়, সেটা দেখতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। পরে আর বিষয়টি এগোয়নি। তবে খালটির ব্যাপারে বিশদ আকারে বসব। এর পর সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে খালটি আবার চলমান করা যায়।’

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর