ফ্রান্সে স্ত্রীকে অচেতন করে অন্য পুরুষ দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ডোমিনিক পেলিকোতকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও ৫০ জনকে ৩ থেকে ১৫ বছর মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে দুজনের কারাদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আভিগননের একটি আদালতের বিচারক বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলেছে, ৭২ বছর বয়সী ডোমিনিক পেলিকোতকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ মেয়াদের সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। এ সময় রায় শুনে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ডোমিনিক।
গিস লের স্বামী ডোমিনিক পেলিকোত তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করতেন। এরপর অন্য পুরুষ দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করাতেন। এভাবে চলেছিল প্রায় এক দশক। একবার-দুবার নয়, এমন ভয়ংকর ও অমানবিক ঘটনা ৯২ বার ঘটেছে গিস লে পেলিকোতের সঙ্গে। ডোমিনিক অনলাইনে এসব লোক ঠিক করতেন। গত সেপ্টেম্বরে আলোচিত এ মামলার বিচার শুরু হয়।
রায় শেষে গিস লের পরিবারের এক সদস্য জানান, ডোমিনিককে লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ শাস্তিতে গিস লের সন্তানেরা হতাশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ডোমিনিক অনলাইনে এসব পুরুষ ঠিক করতেন। অভিযুক্ত পুরুষদের মাঝে তরুণ, বৃদ্ধ, মোটা, পাতলা, কৃষ্ণাঙ্গ, শ্বেতাঙ্গসহ বিভিন্ন শ্রেণিপ্রেশার মানুষ আছেন।
রায়ের পর আদালতের বাইরে কথা বলার সময় গিস লে পেলিকোত বলেন, ‘এই বিচারের পর্বটি অত্যন্ত কঠিন অগ্নিপরীক্ষা ছিল। তবে তিনি বিচার কার্যক্রম সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে কখনও অনুশোচনা বোধ করেননি; যাতে কী ঘটছে তা সমাজ দেখতে পারে।’
এদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়, ডোমিনিকের আইনজীবী বিট্রিস জাভারো আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, তার মক্কেল এ রায়ের বিপক্ষে আপিল করবেন কি না, তা আগামী ১০ দিনের মধ্যে ভেবে সিদ্ধান্ত নেবেন।