Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আমরা সত্যের সঙ্গে ও ন্যায়বিচারের পক্ষে আছি: র‍্যাব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৩৩

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

ঢাকা: র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেছেন, আমরা সত্যের সাথে আছি, ন্যায়বিচারের পক্ষে আছি। যখন আমাদেরকে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে- সেটা সরকারের পক্ষ থেকে হোক বা বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে- আমরা আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে সেগুলো পালন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব বিলুপ্ত হতে চলেছে, বিলুপ্তির পথে থাকা বাহিনীর প্রধান হিসেবে যারা র‍্যাবের এই দীর্ঘদিনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে যে অবদান দেখিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ বা পিএনজি রয়েছে; র‍্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা? এবং নতুন বাহিনীতে যাওয়ার আগে র‍্যাব ক্ষমা চাইবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘সরকার নির্ধারণ করবে বাহিনী আসলে কীভাবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে তাদের কার্যবলি কীভাবে পরিচালিত হবে, পুরোটাই সরকারের ওপর নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে আমি শুধু বলতে পারি যে, নতুন একটি আইন প্রণীত হচ্ছে। এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাহিনীটির জন্য নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আমি বলব শুভ অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

আগের যে এলিগেশনগুলো (অভিযোগ) আছে, সে বিষয়গুলোকে আসলে র‍্যাব কীভাবে দেখছে- প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পিএনজি (পারসোনা নন গ্রাটা)-র যে বিষয়টি আপনি উপস্থাপন করলেন, এই বিষয়টি হচ্ছে আমাদের ক্যান্টনমেন্টগুলো যেগুলো আছে, সেখানে আমাদের এই পিএনজি বিষয়টিকে মেইনটেইন করা হয়। এটা তো আসলে সেনানিবাসের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলার বিষয়, এটা সেনানিবাসের কর্তৃপক্ষের ওপরই নির্ভর করছে। আর র‍্যাবের পক্ষ থেকে যদি বলি, তাহলে বলতে পারি যে- এই বিষয়ে তো মামলা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত হয়েছে, এটি একটি বিচারাধীন প্রক্রিয়া। এই বিচারাধীন প্রক্রিয়াগুলো যা আছে, তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের, যে সকল তথ্য দিয়ে সহায়তা করার কথা আমাদের পক্ষ থেকে-বাহিনীর পক্ষ থেকে-আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছি। আমাদের কাছে যত তথ্য আছে, যখন যে তথ্য আমাদের কাছে চাওয়া হচ্ছে, সেগুলো উপস্থাপন করছি।’

র‍্যাব যদি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং নতুন একটি বাহিনী গঠিত হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে এই বিচারাধীন প্রক্রিয়াগুলোর কী হবে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন একটি আইন হচ্ছে, এই আইনটি কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে ওয়েবসাইট আছে, সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা আছে। যাতে জনসাধারণ এই আইনটি পড়বে, দেখবে এবং তাদের সুচিন্তিত মতামত সেখানে দিতে পারবে। এগুলো একটি মেল অ্যাড্রেসে গিয়ে জমা হবে। সেখান থেকে এগুলোকে দেখে বিচার-বিশ্লেষণ করে যে যে পরামর্শগুলো নেওয়ার মতো, অবশ্যই মন্ত্রণালয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তারা চিন্তা করবেন। এই প্রক্রিয়া কিন্তু চলমান আছে। খসড়ার একদম শেষে কিন্তু উল্লেখ করাই আছে যে-এই আইনটি যখন প্রণীত হবে, তখন র‍্যাবের আওতায় যে সকল সদস্য বিচারাধীন ছিল, তাদের বিচারকার্য আগের হিসাব অনুযায়ী চলমান থাকবে। এমন নয় যে র‍্যাব বিলুপ্ত হয়ে যাবে, নতুন একটা বাহিনী গঠিত হবে আর সেক্ষেত্রে বিচার-টিচার আর কোনো কিছু হবে না বিষয়টি কিন্তু মোটেই সেরকম নয়। সেটা এখানে একদম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।’

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ‘একটি ফ্রেশ স্টার্ট হতে যাচ্ছে আশা করছি। আমরা জানি আপনাদের অনেকেরই এই নিয়ে অনেক জিজ্ঞাসা আছে। যারা হয়তো শুধু দেখছেন যে নামের পরিবর্তন, আসলে বিষয়টি শুধু নামের পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭৯ সালের যে অর্ডিন্যান্সকে অ্যাক্টে রূপান্তরিত করে র‍্যাব বাহিনী গঠন করা হয়েছিল সেই অ্যাক্ট এবং বর্তমানের যে এসআরবি আইন, এই দুটোকে আপনারা পাশাপাশি নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখেন, তাহলে বিশেষ কিছু পরিবর্তন আপনারা সেখানে দেখতে পাবেন।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে