Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

লুসাকা গ্রুপে শ্রমিকদের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২২ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:০২ | আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ০১:০৪

নারী শ্রমিকদের যৌন হয়রানির অভিযোগ লুসাকা গ্রুপের দুই পোশাক কারখানার বিরুদ্ধে রোববার শ্রম উপদেষ্টা ও শ্রম সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেয় জাতীয় গার্মেন্টস ফেডারেশন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: শ্রমিকদের যৌন হয়রানি ও ছাঁটাই-নির্যাতনের বিরুদ্ধে শ্রম উপদেষ্টা ও শ্রম সচিব কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় গার্মেন্টস ফেডারেশন।

এতে বলা হয়েছে, লুসাকা গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান আশুলিয়ায় অবস্থিত তাম্মাম ডিজাইন ও বেক নিট কারখানায় নারী শ্রমিকরা যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। প্রতিবাদ করায় তাদের অনেককে চাকরিচ্যুতও করা হয়েছে।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানান। পরে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ও সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, লুসাকা গ্রুপ দেশের তৈরি পোশাক খাতের বড় একটি গ্রুপ। ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় এই গ্রুপের অধীনে দুটি কারখানা তাম্মাম ডিজাইন ও বেক নিটে প্রায় ১২ শ শ্রমিক কর্মরত, যার বেশির ভাগ নারী।

অভিযোগ তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, দুটি কারখানার ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত মধ্যম সারির কিছু কর্মকর্তা নারী শ্রমিকদের প্রতি অত্যন্ত হীন মনোভাব পোষণ করেন। তারা নারী শ্রমিকদের রীতিমতো যৌন কর্মী হিসেবে গণ্য করেন। নারী শ্রমিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, অকথ্য ভাষায় কথোপকথন, গায়ে হাত দেওয়া, ‘কু প্রস্তাব’ দেওয়া ও তাতে রাজি হতে চাপ প্রয়োগ করা এবং এমনকি ‘কু প্রস্তাবে’ রাজি না হলে চাকরিচ্যুত করতেও দ্বিধা না করার মতো ঘটনাকে তারা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করেছেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, বারবার এ ধরনের যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটায় নারী শ্রমিকসহ অন্য শ্রমিকরাও প্রতিবাদ করতে বাধ্য হন। এর জের ধরে গত ৪ ডিসেম্বর কারখানার ৮৫ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাদের ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

যৌন হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির বিষয়ে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি অভিযোগ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বিজিএমইএর কাছে অভিযোগ করার পরও মালিকপক্ষের অনীহার কারণে বিষয়টির সমাধান হয়নি। পরে শ্রম মন্ত্রালয়ের কলকারখানা অধিদফতরে অভিযোগ দিলে ১১ ডিসেম্বর একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে মালিকপক্ষ অভিযোগ স্বীকার করে তাদের সম্মতির ভিত্তিতে ২২ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠকে ফয়সালা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

লুসাকা গ্রুপের এসব অভিযোগ নিয়ে গার্মেন্টস ফেডারেশনের পক্ষে ফরিদুল ইসলাম, মল্লিকা জামান ও কারখানার ভুক্তভোগী নারী শ্রমিক কামরুন নাহার মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর