Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বন্ধ শিল্প চালু ও কৃষিতে অর্থায়নে ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৩১ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৩৫

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের উৎপাদনশীল খাত, শিল্প ও সেবা খাত, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে অর্থায়ন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিল বাস্তবায়নে ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এসব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য ও ঋণপ্রবাহের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই তহবিলের অর্থ উৎপাদনশীল ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হবে। এর মাধ্যমে বন্ধ ও সংকটে থাকা শিল্প-সেবা প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় সচল করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন বাড়ানো, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৪১ হাজার কোটি টাকার এই তহবিলের অর্থ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহার করা হবে।

এর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের সহায়ক প্রাক্-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা উৎপাদন ব্যাহত হওয়া সম্ভাবনাময় শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় চালু করতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

সিএমএসএমই খাতের চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে ৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতে এই অর্থ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া রফতানি বহুমুখীকরণ খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করা হবে। রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং নতুন পণ্য ও বাজার তৈরিতে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।

কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই অর্থ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত মে মাসে স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরানো এবং বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর লক্ষ্যে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল হিসেবে গঠনের কথা বলা হয়। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন বিশেষ কর্মসূচিতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট)-এর চুক্তির মাধ্যমে ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। চুক্তিতে অংশ নেওয়া ব্যাংকগুলো হলো—সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সাসটেইনেবিলিটি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ তহবিলটির গুরুত্ব ও এর তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি উৎপাদনশীল ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে গঠিত ৪১ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল উৎপাদনশীল ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি প্রাক্-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এতে ব্যাংকগুলোর তারল্য উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পথ তৈরি হবে।

বিশেষ করে বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হলে বিদ্যমান অবকাঠামো ও উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই তহবিলের সুদের হার ও ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন পদ্ধতি নিয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো অর্থনীতিতে স্থবিরতা কাটিয়ে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বাড়ানো। একই সঙ্গে কৃষি, সিএমএসএমই, রপ্তানি এবং পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে অর্থায়ন বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, চুক্তিবদ্ধ ১৭টি ব্যাংক তহবিল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতীয় স্বার্থে উৎপাদনশীল খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর