Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:২৮

মতবিনিময় সভা। ছবি: সারাবাংলা।

ঢাকা: দেশের পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৩তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো। একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে ১৩তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি সেমিনারও। পোল্ট্রি বিষয়ক আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্মিলন ঘটাতেই এই শো ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যমের জেষ্ঠ্য সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) এর সভাপতি মসিউর রহমান।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এর সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ, ওয়াপসা-বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. বিপ্লব কুমার প্রামাণিক এবং ১৩তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার মিডিয়া সাব-কমিটির সদস্য সচিব ডা. বিশ্বজিৎ রায় এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) এর সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ডিম, সপ্তাহে ২ কোটি একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা এবং বছরে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ লাখ মেট্রিক টন ফিড উৎপাদিত হচ্ছে। যা মাত্র তিন দশক আগেও ছিল কল্পনাতীত। সরকার ২০৪১ সাল নাগাদ বছরে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ২০৮টি, দুধের দৈনিক প্রাপ্যতা ৩০০ মি.লি এবং মাংসের দৈনিক প্রাপ্যতা ১৬০ গ্রামে উন্নীত করতে চায়। অর্থাৎ বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ উৎপাদন বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, পোল্ট্রি বিজ্ঞান সম্পর্কে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। আমাদের এবারের আয়োজনের লক্ষ্যই হচ্ছে সে সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের খামারিদের সাহায্য করা। বাংলাদেশে আধুনিক পোল্ট্রি শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল ওয়াপসা-বিবি আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো’র হাত ধরে। ফলে ১৩তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনারের মধ্য দিয়ে দেশের পোল্ট্রি শিল্পে আরেক নবযাত্রা শুরু হবে।

ওয়াপসা-বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. বিপ্লব কুমার প্রামাণিক বলেন, কোন কিছু খেলেই হবে না। খাদ্যকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ হতে হবে। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ মধ্যম আয়ের, সে কারণে ডিম কিংবা মুরগির মাংস কিভাবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা যায় সে লক্ষ্যে অবিরাম কাজ করছে ওয়াপসা বাংলাদেশ শাখা।

পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অব পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল’ (বিপিআইসিসি) এর সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, বিগত ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পোল্ট্রি শিল্পের লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়নি বরং মাঝে উৎপাদন কমেছিল।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সবচেয়ে সস্তায় প্রাণিজ আমিষ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে ডিমের দাম ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। আজকের দিনে ভারতেও ডিমের দাম ১০ টাকার ওপরে। বিশ্বব্যাপী ফুড ইনফ্লেশন বেড়েছে। সে কারণে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে চরম অস্থিরতা বিরাজ করেছে। ডিম, মুরগি, বাচ্চার দাম বারবার ওঠানামা করেছে। এ খাতকে টেকসই করতে হলে মার্কেট স্ট্যাবিলিটি আনতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে কিন্তু একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায়ও নজর দিতে হবে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো