Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব


২০ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪৭

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের ৩ হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার ছাদ ব্যবহার করে প্রায় ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ১৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ। এতে পোশাকশিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বৃহস্পতিবার(২০ আগস্ট) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এক সমীক্ষার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহাম্মেদ ভূঁইয়া। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের পোশাক কারখানাগুলোর মোট বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণ হচ্ছে। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই হার ১৪ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমানে প্রায় ৫০০ পোশাক কারখানা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় সুবিধা ও নীতিসহায়তা দেওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যে আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০ কারখানাকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, বাকি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কারখানাকেও নীতিগত সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী করে তোলা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ অবকাঠামো স্থাপনের খরচ কমানো জরুরি।

সিপিডির সমীক্ষায় বলা হয়, পোশাকশিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হলে কারখানাগুলোর ছাদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে বড় কারখানাগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সুযোগ রয়েছে। এতে একদিকে শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ নিজস্বভাবে পূরণ করা যাবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

সেমিনারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ব্যবসায়ীরা সৌর প্যানেল আমদানিতে শুল্কায়ন নিয়ে জটিলতার অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সহসভাপতি জাহিদুল আলম বলেন, বাণিজ্যিকভাবে সৌর প্যানেল আমদানির ক্ষেত্রে সাড়ে ১৩ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রতি কেজিতে ৩ ডলার করে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত শুল্কের বোঝা ২৭ শতাংশের বেশি দাঁড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের শুল্কায়নের কারণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ের ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত খরচের চাপ তৈরি হচ্ছে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বললেও বাস্তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিগত জটিলতার কারণে সৌরবিদ্যুৎ খাত প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারছে না।
তাঁদের মতে, পোশাকশিল্পে সৌরবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে আমদানি ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, অবকাঠামো স্থাপনের ব্যয় কমানো এবং প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। এসব পদক্ষেপ নেওয়া গেলে দেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর